আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ। কিশোরগঞ্জ জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার মুহতামিম ও কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল হাইয়াতুল উলইয়ার অন্যতম সদস্য। শিক্ষকতা পেশায় জীবনের দীর্ঘ একটা সময় ব্যয় করেছেন বিশিষ্ট এ আলেম। আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের মক্তবশিক্ষার সূচনাকাল, মক্তবশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, নানা অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন তিনি। আলাপচারিতায় ছিলেন মোস্তফা ওয়াদুদ।
বাংলাদেশে মক্তব শিক্ষার সূচনাকাল সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি?
মক্তব শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমেই এ দেশে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা হয়েছে। দেশভাগের পূর্বে পূর্ব-পাকিস্তান আমলে এ দেশে বোগদাদী কায়দা পড়ানো হত সকালের মক্তবগুলোতে। মক্তবে কোমলমতি শিশুদের নামাজের প্রাথমিক সুরা, নিয়মকানুন ও দৈনন্দিন মাসনূন দোয়া শেখানো হত।
'বোগদাদী কায়দা'র মাধ্যমে এ দেশে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সকালের মক্তব ব্যবস্থা চলে আসছিল। বেগদাদী কায়দার প্রচ্ছদ কালার ছিলো লাল রঙ্গের। এটিতে সহিহভাবে কুরআন ও নামাজে প্রয়োজনীয় সুরা, তাশাহুদ, দরুদ শরীফ, দোয়ায়ে মাছুরা ও দোয়ায়ে কুনুত শেখানো হত।
এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার 'মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব সাহেব' উদ্ভাবন করেন 'নাদিয়াতুল কুরআন' পদ্ধতি। এটিও দীর্ঘদিন পর্যন্ত চালু ছিল। তারপর নাদিয়াতুল কুরআন শুধু কুরআন শুদ্ধ করে পড়া যায় এভাবে রচনা করা হল। গত কয়েকবছর ধরে অবশ্য ক্বারী বেলায়েত সাহেব রহ. প্রণীত 'নূরানী কায়দা' দেশের মক্তবগুলোতে পঠিত হচ্ছে।
দেশে ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোতে নূরানী পদ্ধতির ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়। এ কায়দার বৈশিষ্ট সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?
নূরানী কায়দার বৈশিষ্ট হল- এ পদ্ধতিতে কুরআন শরিফ শুদ্ধ শেখানোর পাশাপাশি শিশুদের প্রাথমিক বাংলা, অংক ও ইংরেজি যোগ করা হয়েছে। যা সকালের মক্তবের চেয়ে দেশের নূরানী মাদরাসাগুলোতে বেশি পঠিত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে আমি আমাদের নিজস্ব একটি বোর্ডের চিত্র আপনাকে জানাতে চাই। সেটি হলো, আমাদের 'তানজিমুল মাদারিস' নামে একটি বোর্ড রয়েছে। যেখানে নূরানী বিভাগে সহিহভাবে কুরআন শেখার পাশাপশি প্রাথমিক অক্ষরজ্ঞান শিখিয়ে দেয়া হয়। যা শিশু বাচ্চাদের মানসিক বুদ্ধি বিকাশে বেশ সহায়ক হচ্ছে।