মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনায় আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রীতির বন্ধনে ৪৫ বছর, নড়াইলে গা ঘেঁষে অবস্থান মসজিদ-মন্দিরের কুমিল্লায় বৃত্তি প্রদান ও আল্লামা নুরুল হক (রহ.)-এর স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে মাদানী পাঠাগারের উদ্যোগে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি আইএবি ঢাকা দক্ষিণের মহিলা ইউনিটের ২৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা জেদ্দা বিমানবন্দরের নর্থ টার্মিনালের ফ্লাইট স্থানান্তর, হজ-ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নির্দেশনা সেবার আলো মাওলানা সাজ্জাদ নোমানির নেতৃত্বে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নেতাদের বৈঠক দেশের ইসলামী স্কুলগুলো বড় আশীর্বাদ: মাসউদুল কাদির গণপিটুনি ও রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যু সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ: গাজী আতাউর রহমান

গুজরাটে দাঙ্গায় ১৪ স্বজন হারানো মুসলিম নারীকে ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ২০০২ সালে ৩ জুন ভারতের গুজরাটে আহমেদাবাদের কাছে রাধিকাপুর গ্রামে বিলকিস বানুর পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ছিল বিলকিসের ৩ বছরের কন্যা সন্তান সালেহা; যার মাথা পাথর দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় বিলকিস অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু হামলাকারীদের হাত থেকে তিনিও রক্ষা পাননি। তার পরিবারের ওপর এমন নারকীয় অত্যাচার চালানোর সময় তাকেও গণধর্ষণ করা হয়।

পরিবারে বিলকিসই একমাত্র বেঁচে যান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর। ভারতজুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়। আততায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ২০০৮ সালেই বোম্বে হাইকোর্টে অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণ হলেও অভিযোগকারিণীর পক্ষ থেকে করা ক্ষতিপূরণ এবং দোষী পুলিশ অফিসারদের শাস্তি সম্পর্কিত আবেদন নিয়ে শুনানি চলছিল শীর্ষ আদালতে। সেই মামলার রায়ে আজ সুপ্রিম কোর্ট জানায় গুজরাটের রাজ্য সরকারকে ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বিলকিস বানুকে।

২০০২ সালের পর থেকে বিলকিস বানুকে প্রায় যাযাবরের জীবন যাপন করতে হচ্ছে জানার পর প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈসহ তিন বিচারপতির বেঞ্চ বিলকিস বানুকে একটি সরকারি চাকরি এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেন। রাজ্য সরকারের দেওয়া পাঁচ লাখ রুপির ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করে বোম্বে হাইকোর্টে যে পুলিশ অফিসাররা তদন্ত ভুল পথে পরিচালিত করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল, বিলকিস তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছিলেন। একইসঙ্গে তার দাবি ছিল স্মরণযোগ্য ক্ষতিপূরণের।

২০০৮ সালে বোম্বে হাইকোর্ট ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাবাসের রায় দেয়। কিন্তু যেসব পুলিশ অফিসার তদন্ত বিপথে পরিচালিত করার জন্য তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করার অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিল তাদের কোনও শাস্তি হয়নি। সেই দোষী পুলিশ অফিসারদের শাস্তির দাবিতেই বিলকিস বানুর আইনজীবী শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হন। তার আবেদনে আইনজীবী তিন বিচারপতির বেঞ্চকে জানান, অভিযুক্ত পাঁচজন পুলিশ অফিসারের মধ্যে চারজন অবসর নিয়েছে এবং একজন আইপিএস আর এস ভাগোরা কয়েকদিনের মধ্যেই অবসর নিতে চলেছে। কিন্তু তাদের কারওর বিরুদ্ধেই কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে দোষী পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করার সঙ্গেই সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয় ইতোমধ্যেই পাঁচ দোষী পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে চারজনের অবসরকালীন ভাতা স্থগিত করা হয়েছে এবং পঞ্চমজনকে নিচু পদে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। বোম্বে হাইকোর্ট পাঁচজন দোষী পুলিশ অফিসারদের চারজনকে ১৫ হাজার রুপি এবং একজনকে ৫ হাজার রুপি জরিমানা করেছিল। মামলা চলাকালীন তাদের জেলে থাকতে হয়েছিল বলে হাইকোর্ট নতুন করে তাদের আর হাজতবাসের রায় দেয়নি।

কেপি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ