ইসমাঈল আযহার: ইমাম শাফেয়ি রহ, মুসলিমদের তৃতীয় ইমাম। তিনি আসকালন প্রদেশের গাজা নামক স্থানে ১৫০ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। শিশুকালে পিতার ইন্তেকালের পর শাফেয়ি রহ. এর মা তাকে নিয়ে মক্কা চলে যান এবং সেখানে তিনি বড় হয়ে ওঠেন।
ইমাম শাফেয়ি রহ. এর গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি তথ্য উল্লেখ করা গেল।
১. যেভাবে ইসলামের ধারাবাহিকতা শাফেয়ি রহ. এর বংশে
ইমাম শাফেয়ি রহ. পূর্বপুরুষ সায়েব বিন উবাইদুল্লাহ বদর যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে বন্দি হন। পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার হাতে ছিল বনি হাশেমের ঝাণ্ডা। রক্তপণ আদায় করার পর তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেন লোকেরা বিস্ময় প্রকাশ করে। তিনি বললেন, আমি মুসলমানদেরকে তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করতে চাইনি। এক বর্ণনা মতে শাফেয়ি রহ.-এর এই পূর্বপুরুষের বাহ্যিক আকার-আকৃতি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
২.ইমাম শাফেয়ি রহ. কে নিয়ে মায়ের শঙ্কা
ইমাম সাহেবের মায়ের আশঙ্কা ছিল, ইয়েমেনে তার নতুন বংশ নষ্ট হয়ে যাবে (এক বর্ণনা মতে আসকালানে তার জন্মগ্রহণ)। এ কারণে তিনি দশ বছর বয়সে শাফেয়ি রহ.কে নিয়ে মক্কায় চলে যান। শাফেয়ি রহ.- এর মা বর্নণা করেন, শাফেয়ি রহ. মাতৃগর্ভে থাকাকালীন আমি স্বপ্নে দেখি, মুশতারী (মঙ্গল নামক তারা) তারাটি আমার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মিশরে পতিত হয় এবং তার আলো প্রতিটি শহরে গিয়ে পৌঁছে। স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীগণ বললেন , গর্ভ থেকে এমন একজন আলেম জন্ম নিবে, যার ইলম মিশর থেকে প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে পড়বে।
ইমাম সাহেব পিতৃহীন ছিলেন। তার জন্মের পূর্বেই অথবা তার জন্মের পরপরই তার পিতা মারা যান। তার মাতা তাকে দু' বছর বয়সে মক্কায় নিয়ে আসেন।
৩. বাল্যকালে দুটি জিনিসের প্রতি ঝোঁক,
বাল্যকালে দুটি জিনিসের দিকে ইমাম শাফেয়ি রহ. এর সমস্ত মনােযােগ ছিল, তীর নিক্ষেপ এবং জ্ঞান অর্জন। তীর নিক্ষেপে তিনি এমন পারদর্শি ছিলেন যে, দশটার মধ্যে দশটাই সঠিক লক্ষ্যে গিয়ে পৌঁছত। ওই সময় ঘােড়ায় আরােহণের আগ্রহও ছিল ইমাম শাফেয়ির। তীর নিক্ষেপ এবং ঘােড়সওয়ারী সম্বন্ধে কিতাবুসবক ওয়াররমী’ নাকম গ্রন্থ রচনা করেন তিনি। এ বিষয়ে এটাই ছিল সর্বপ্রথম কিতাব। সঙ্গে সঙ্গে পড়ালেখার দিকে পুরাে মনােযােগ ছিল। পিতৃহীনতা এবং দরিদ্রতা সত্ত্বেও সম্পদের চিন্তা