মুফতি খালেদ হাসান জুবায়ের কাসেমি
১৮৫৭ সালের বৃটিশ বিরোধী যুদ্ধের পর যখন দেওবন্দ শহরে ছাত্তা মসজিদে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হজরত কাসেম নানুতবি রহ. ও তার সঙ্গী উলামায়ে কেরাম।
আর প্রথম উস্তাদ ছিলেন মোল্লা মাহমুদ রহ., প্রথম ছাত্র ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি রহ.। যাকে ‘শায়খুল-হিন্দ’ বলা হয়।
ইতিহাস সাক্ষী, ডালিম গাছের নিচে এক শিক্ষক এক ছাত্রকে উলুমে নববির জ্ঞান চর্চার যে ধারা চালু করেছিলেন আজ তা সারা পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ও সমাদৃত।

মাহমুদ আফেন্দিই তুর্কির কাসেম নানুতবি
তুর্কিতে যখন মোস্তাফা কামাল আতার্তুকের মাধ্যমে উসমানি খেলাফত ধ্বংস করা হল, ধর্মীয় সব কাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হল, ধর্মীয় শিক্ষা ও আরবি ভাষা শিক্ষা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল তখন কিছু আলেম গোপনে গোপনে গ্রামে গঞ্জে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গাছের নিচে বাচ্চাদের কুরআন শেখাতেন।
যখন তারা সৈন্যদের আসতে দেখতেন তখন তারা সাথে সাথে কৃষিকাজে লেগে যেতেন এবং সৈন্যরা ভাবত এরা কৃষি কাজ করছে। এই ছাত্রদের মধ্যে মাহমুদ আফেন্দি একজন (জন্ম: ১৯২৯) ছিলেন।
তিনি এ রকম কষ্ট করে দীনি ইলম অর্জন করেন। পরে তিনি নিজেও গ্রামেগঞ্জে এভাবে ছাত্রদের দীন শেখাতেন। তার শিষ্যরা ও এভাবে দীন শেখানোর কাজে লেগেছেন।

তার দুইজন শিষ্য এভাবে দীন শেখানোর সময় সৈন্যদের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ায় তাদের শহিদ করে দেওয়া হয়। পরে তিনি এ মিশন নিয়ে শহরমুখী হন।
সেখানে একটি পুরাতন মসজিদ ছিলো। তিনি সেখানে অবস্থান করা শুরু করলেন এবং দীনি ইলম শিক্ষা দেওয়া শুরু করেন। চল্লিশ বছর ধারাবাহিক এভাবে মানুষদের দীন শেখালেন।
কিন্তু প্রথম আঠারো বছর পর্যন্ত কেউ তার পেছনে সৈন্যদের ভয়ে প্রকাশ্যে নামাজ পড়ার সাহস করতে পারেনি। তবে সময়ের সাথে সাথে কিছু কিছু মানুষ সাহস করে তার পেছনে জামাতে নামাজ পড়া শুরু করে।
এ বুজুর্গদের মেহনতের ফলে একটা সময় সব মসজিদে আজানের সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হয়ে একসাথে নামাজ আদায় করেন।
নিষেধাজ্ঞার সময় শায়খ মাহমুদ আফেন্দি ছাত্রদের আঙুলের ইশারায় সরফ-নাহু শেখাতেন এবং হাতের ইশারায় মাসআলা মাসায়িল শেখাতেনà¥