সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
কবি, গবেষক ও সাংবাদিক
পাশাপাশি দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো তিতুমীর কলেজছাত্র রাজীব হোসেন চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তাকে বাঁচানো গেলো না। সোমবার গভীর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা রাজীবকে মৃত ঘোষণা করেন।
৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারান ছাত্র রাজীব। দুই বাসের চাপায় তার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাজীবের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বলা যায়, গত কয়েকদিনে তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
দুই বাসের চাপায় রাজীবের হাত হারানোর রেশ কাটতে না কাটতেই ৫ এপ্রিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এক নারী। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় আজিমপুর-আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী বিকাশ পরিবহনের দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় চাপা পড়েন গৃহিণী আয়েশা খাতুন।
মূলত নিজের ৬ বছর বয়সী মেয়েকে বাঁচাতে গিয়েই বাসের নিচে পড়েন আয়েশা খাতুন। চিকিৎসকরা বলছেন, মেরুদণ্ড ভাঙ্গার কারণে আর কখনোই দাঁড়াতে পারবেন না তিনি।
রাজধানীসহ সারাদেশে সড়কপথে পরিবহনগুলোর এক প্রকার নৈরাজ্যে প্রতিদিনই ঝরছে অনেক প্রাণ। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মোট ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৯৭ জন। আর আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন। এর মধ্যে অনেকেই পঙ্গু হয়ে গেছেন।
এত দুর্ঘটনার পরও সড়কপথে নৈরাজ্য থামছে না কেন? এসব দুর্ঘটনায় দোষী চালক দৃষ্টান্তমূলক সাজা পেয়েছেন এমন ঘটনাও যে হাতেগোনা। তাহলে কি সঠিক বিচার না হওয়ায়ই বেপরোয়া হচ্ছেন চালকরা?
বেপরোয়া গাড়িচালকদের খামখেয়ালিতে রাজীব, আয়েশার মতো অঙ্গহানিসহ প্রতিদিন এত মানুষের জীবন রাজপথে ঝরে যাচ্ছে। ভেঙ্গে যাচ্ছে অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন, শান্তি ও স্বচ্ছলতা।
যে শহরে বাসের গড়গতি পায়ে হাঁটার গতির প্রায় সমান, সেই শহরেই রাজিবের মতো জীবন সংগ্রামী, সম্ভাবনাময় তরুণরা বাস চালকের বেপরোয়া প্রতিযোগিত