বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


মাদকের বিস্তার রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন : দেশের যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের ওপর চলছে মাদকের ভয়াল থাবা। মাদকের এ ভয়াল থাবার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিদিন জেলা-উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনকারী, পাচারকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীদের আটক করতে পারলেও মূল হোতারা যে থেকে যাচ্ছে পর্দার আড়ালেই। ফলে আশানুরূপভাবে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কিন্তু এভাবে আর কতদিন? মাদকের অপ্রতিরোধ্য গতি রোধ করতে না পারলে যে আমাদের অনেক বড় সর্বনাশ হয়ে যাবে। অবশ্য সর্বনাশের খুব বেশি বাকি কিছু তো নেই। তবে এখনও যদি এর লাগাম টেনে ধরা যায়, সুন্দর কিছু পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভবান ব্যবসা। বিশেষ করে ফেনসিডিল ও ইয়াবা সহজলভ্য ও বহনযোগ্য বলে এসবের বিস্তার দেশজুড়ে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, সীমান্ত এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি। এর কিছু ধরা পড়লেও বাকিটা চলে যায় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে।

মাদকের জগতে এক সময় ‘হেরোইন’ নামক মরণ নেশা ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল। এ পদার্থটি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে নিঃশেষ করে অবধারিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এটি খুব দামি বলে পরবর্তী সময়ে এর স্থান দখল করে নেয় ফেনসিডিল ও ইয়াবা। বর্তমান নেশাসক্ত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ফেনসিডিলের চেয়ে ইয়াবাই বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে।

বলা যায়, ইয়াবা দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। শহরাঞ্চলে তো বটেই, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আজ এই মারণনেশার ছড়াছড়ি। ইয়াবার অবৈধ ব্যবসায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় নানা শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার শক্তি সাধারণ মানুষের নেই। প্রতিবাদ করতে গিয়ে এরই মধ্যে অনেককে জীবনও দিতে হয়েছে। এমনকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও জড়িয়ে পড়ছেন এর সঙ্গে। কিছু সদস্য এরই মধ্যে ধরাও পড়েছেন। তবু অব্যাহত গতিতে বাড়ছে মাদক ও ইয়াবার ব্যবসা। এভাবে চলতে থাকলে এ দেশের যুবসমাজ পুরোপুরি ধ্বংস হতে খুব বেশি সময় লাগবে কি?

ইয়াবা বর্তমানে সবচেয়ে ভয়ংকর নেশা হিসেবে আবির্ভূত হলেও ১৯৯০ সালের আইনে ইয়াবার নামই নেই! ফলে ইয়াবা পাচার, বেচাকেনা এবং ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময়ই সম্ভব হয় না। বিচারের দীর্ঘসূত্রতাও এ ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলতে থাকে। আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসে। একসময় সাক্ষী-প্রমাণের অভাবে মামলা বাতিলও হয়ে যায়।

এমন ব