সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
আজকের লেখাটা প্রশ্ন দিয়েই শুরু করছি। কারণ প্রশ্নটা মনে ঘুরপাক খাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই। প্রশ্নটা হচ্ছে-দেশে এত বেশি ব্যাংকের অনুমোদন কেন? তাতে কি ব্যাংক খাতের মান থাকছে? বেশি ব্যাংক হওয়ার ফলে সুশাসন নিয়েও প্রশ্ন ওঠছে।
দেশে এখন ৫৬টি ব্যাংক হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে হয়ত দেখা যাবে কোটিপতি ব্যাংক দেওয়া হয়েছে! তারপর আস্তে আস্তে হয়ত পুলিশ অফিশিয়াল ব্যাংক, সাংবাদিক ব্যাংক, দরবার ব্যাংক, জননেতা ব্যাংক, বিসিএস ক্যাডার ব্যাংক, সরকারি চাকরিজীবী ব্যাংক-এভাবে একের পর এক ব্যাংকের অনুমতি দেওয়া হবে।
কিন্তু বাস্তবতা পর্যালোচনায় বলতে হয়, দেশে এখন ছোট ও দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে দেওয়ার সময় এসেছে। বিশেষ করে সুশাসন নিশ্চিত করতেই কিছু ব্যাংক একীভূত করা দরকার।
অবশ্য ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে সব ধরনের নীতি অনুসরণেও ব্যাংকগুলোর সকল পর্যায়ে বাধ্য করতে হবে। বিশেষ করে পরিস্থিতি উন্নয়নে ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে। মনে রাখা চাই, ব্যাংক খাতের পরিবর্তন যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না হয়, তা হলে সেখান থেকে সুফল আসবে না।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে দেশের বড় বড় শিল্প গ্রুপসমূহ ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছে, যার বেশিরভাগই আবার খেলাপী হয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোতে বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ২৫ শতাংশই খেলাপী আর বেসরকারি ব্যাংক খেলাপী ঋণের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ।
রিসিডিউল এবং পুনর্গঠন করা ঋণ হিসাবে আনলে এই খেলাপী ঋণের পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে। খেলাপী ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি মুখ থুবড়ে পড়েছে এবং অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্থ হয়েছে।
বর্তমানে রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। হল-মার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রপ কেলেংকারী, বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক কেলেংকারী আর সেন্ট্রাল ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম লংঘন করে অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের ঘটনাসহ ব্যাংক সেক্টরের বিভিন্ন অপকর্ম জনগণের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্যাংক সেক্টরের প্রতি কিছুটা আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যও ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
কথা আরও আছে, খেলাপী ঋণের কারণে ব্যাংকের ডিপোজিটররা তাদের ন্যায্য লভ্যাংশ থেকে বঞ্à