সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাখাইনে ধীরলয়ে জাতি হত্যা চালানোর অভিযোগ করে আসছেন মং জার্নিসহ দেশটির নির্বাসনে থাকা মানবাধিকারকর্মীরা। সাম্প্রতিক সময়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জাতি হত্যার বিষয়টি জোরেশোরেই বলছে। যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ‘ম্যাসাকার ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গাদের নৃশংসভাবে খুন হওয়ার চিত্র। গত বৃহস্পতিবারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনের ইন দিন গ্রামে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার পর একটি কবরে পুঁতে ফেলা হয়।
কবর খননকারীদের দুজন রয়টার্সকে জানান, ১০ রোহিঙ্গার মধ্যে অন্তত দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করে তাদের প্রতিবেশীরা। আর সেনাসদস্যরা নির্বিচারে গুলি করে খুন করে অন্য ৮ জনকে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি তৈরি করতে গিয়ে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মিয়ানমার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন বার্তা সংস্থাটির দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিউ সোয়ে ওকে। পুলিশ মিয়ানমারের ওই দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে রাখাইনসংক্রান্ত গোপন দলিল সংগ্রহের অভিযোগ এনেছে। এখনো তাঁরা কারাবন্দী রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ১০ রোহিঙ্গা মুসলমানকে আটক করে সেনাসদস্যরা। আটক হওয়ার পর ১০ রোহিঙ্গা দেখতে পায় প্রতিবেশী কয়েকজন বৌদ্ধ একটি অগভীর কবর খুঁড়ছে। গ্রেপ্তারের পরদিন সকাল ১০টার পর তাদের হত্যা করে ওই কবরে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৌদ্ধ গ্রামবাসীর কাছে পাওয়া তিনটি ছবি আর ওই কবর খননের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক এক বৌদ্ধ সেনাসদস্য হত্যার সাক্ষ্য দেয়। প্রথম দুই ছবিতে গ্রেপ্তারের পর হাঁটু গেড়ে রোহিঙ্গাদের বসে থাকার দৃশ্য আর তৃতীয় ছবিতে হত্যার পর কবরে তাদের লাশের দৃশ্য তুলে ধরেছে। কবর খননকারীদের একজন ও হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী সাবেক সেনাসদস্য সো চায় বলেন, ১০ জনের জন্য একটি কবর। প্রত্যেককে দু-তিনবার গুলি করে সেনারা। যখন কবর দেওয়া হচ্ছিল তখনো কারও কারও গোঙানির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা ওই ছবি দেখে তাদের চিহ্নিত করেছেন। নিহত ব্যক্তিরা ছিলেন জেলে, দোকানি, দুই ছাত্র এবং একজন মাওলানা।
উত্তর রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তে থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরে মাইয়ু নদী আর বঙ্গোপসাগরের মাঝে অবস্থিত ইন দিন। সেখানে একটি স্কুল, ক্লিনিক আর প্যাগোডার আশপাশে বিচ্ছিন্ন কিছু পাড়া নিয়ে বসতি গড়ে উঠেছে। গ্রামের উত্তরাংশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন বাস করে আসছে। প্রায় স