মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরের লাশ দ্রুত দেশে আনার দাবি জমিয়তের সাইবার আইনে সাংবাদিকদের ভয়ের কোনো কারণ নেই: আইনমন্ত্রী ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকছে আইএমএফ’  নামাজে রাকাতসংখ্যা ভুলে গেলে করণীয় ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক’ ‘সৌ‌দির পরিস্থিতি ঠিক হলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া‌ প্রবাসীদের নিয়ে আলোচনা’ পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের: আইনমন্ত্রী শায়খ আব্দুস সাত্তার: বীর মুজাহিদিনের প্রতিচ্ছবি সৌদিগামী আটকে পড়া যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থার দাবি

বেদাত ও কুসংস্কারের আখড়া হয়ে উঠল সওয়াবের পূণ্যভূমি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা মাহবুবুর রহমান: ‘গাজীর ভূঁই'৷ ভালোমন্দ অনেক মানুষের পরিচিত শব্দ৷ দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী জেলা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বড়দিয়া-মোল্লাদী গ্রামের মধ্যবর্তী একটি জমির নাম৷

জমিটি নিতান্তই ছোট৷ যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাল্পনিক, অবান্তর, অবাস্তব অনেক কথা৷ বহু বানোয়াট কাহিনি৷ গল্প ও ইতিহাস৷ আর সে সূত্র ধরেই এ জমিটির নাম ‘গাজীর ভূঁই৷'

কে এই গাজী? কী তার পরিচয়? কোথায় তার বাড়ি? কেনোই বা সে এসেছিলো এখানে? বর্তমানে কোথায়? কে রেখেছিলো এ নামটি? এসব প্রশ্নের সঠিক কোনো জবাব আজও অবধি মেলেনি ভক্ত কিংবা বিশ্বাসী কারোর কাছ থেকে৷ কেউ দিতে পারে না নির্ভরযোগ্য তেমন কোনো তথ্য৷

তবে জমিটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত চলছিলো বেদাত-শিরকের রমরমা আয়োজন৷ নাচ-গানের আসর৷ প্রতি বছর মাঘ মাসের এক তারিখ থেকে শুরু হতো একটি কুসংস্কারধর্মী মেলা৷ তিনদিনের কথা থাকলেও দিনরাত একাকার করে চলতো গোটা কয়েক দিন৷ লাভবান হতো ব্যবসায়ীরা৷ জুয়ায় অভ্যস্থ হতো মুসলিম যুবসমাজ৷

তরুণ-তরুণীদের প্রলুব্ধ করার জন্য মেলায় থাকতো নানান রকমের আয়োজন৷ তাইতো মেলা শুরু হলে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী ও নারী পুরুষের ঢল নামতো এখানে৷ পুরুষ-মহিলাদের ব্যাপক উপস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতো হরদম৷ ভ্যান, রিক্সা ও গাড়ির জ্যামে বন্ধ হয়ে যেতো মাইলকে মাইল পথ৷ প্রায় দুরূহ হয়ে ওঠতো সাধারণ জনজীবন৷

এ দিনে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসতো মানুষ৷ হিন্দু-মুসলিম সবারই অনেক বিশ্বাস ও ভালোবাসার জায়গা ছিলো এটি৷ জমিটির এক প্রান্তে ছিলো একটি গর্ত৷ আশা ও নিরাশার মানত পূরণ করা হতো যাতে৷ ঢালা হতো মণকে মণ দুধ৷ তাছাড়া হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলের মানত পূর্ণ করা হতো এখানটাতে৷ নানান বিশ্বাসে যত্নসহ মানুষ নিয়ে যেতো মাটি৷ তাইতো ধীরে ধীরে বড় আকারের রূপ নিলো গর্তটি৷ সেই সঙ্গে বাড়লো ভক্তি ও ভক্তকূল৷

বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চিন্তিত ছিলেন এলাকার আলেম-ওলামা, সুধীসমাজ৷ এর বিকল্প কোশেশে ধাপে ধাপে চেষ্টাও করেছেন অনেকে৷ দোয়া, মোনাজাতে চোখের জল ফেলেছেন আল্লাহর কাছের লোকেরা৷ যতো বাধা ততো আবেগ৷ মজবুত হচ্ছিলো তাদের কার্যক্রম৷ পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছিলো তারা৷ তখন সমস্ত চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছিলো৷

২০১৫ সালের কথা৷ গাজীর ভূঁইকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখা