বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


চা দোকানের আড্ডায় ‘গীবত’ চিনির চেয়েও মিষ্টি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আলী আবদুল মুনতাকিম
অতিথি লেখক

বাংলা গানের জনপ্রিয় ভারতীয় শিল্পী মান্না দে’র একটি বিখ্যাত গানের কথা আমরা অনেকেই জানি, গান টি হল, ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, আজ আর নেই, কোথায় হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল গুলো সেই,আজ আর নেই’।

গানটির চরিত্র চিত্রায়নে দেখা যায় কলকাতার একটি বড় কফি হাউজে বন্ধুরা মিলে চা কফি পান করছে আর কবিতা গল্প বা সাহিত্য চর্চা করছে। বিশেষ করে একটি টেবিলে সাত বন্ধুর আড্ডা বা সংস্কৃতি চর্চার স্মৃতি মন্থন খুবই হৃদয়গ্রাহী।

সময়ের ক্রমে এক বন্ধু নিখিলেশ ইতালি তথা ইউরোপ চলে গেছে, আরেক বন্ধু মঈদুল ঢাকায় চলে এসেছে, সবাই প্রতিষ্ঠিত হলেও একজন দুর্ভাগা বন্ধু ক্যানসারে মারাও যায়। সাত বন্ধু মিলে কফি হাউজের সেই সোনালি বিকেল যেভাবে কাটাত আজ আর তা নেই।

তাদের যেমন সেই বয়স নেই তেমনি কফি হাউজেও সেই সাহিত্য আড্ডা আজ আর নেই। গানটির বিস্তারিত বলার কারণ হল এই গানের কবির সোনালি সময়ের, সোনালি বিকেল হারাবার আফসোস তার একার নয়।অনেক কস্ট আর দুংখ মিশেল এই আবেগ ভরা কথাগুলো আমাদের সকলকেই ভাবায়। কফি হাউজে আজ আর ভাল আড্ডা হয় না।

কফি হাউজ কম থাকলেও বাংলাদেশের এমন কোন শহর বা গ্রাম, পাড়া বা মহল্লা পাওয়া যাবে না যেখানে চা দোকান নেই। চা-কফি দোকান অাছে তো জমজমাট আড্ডাও আছে। সেই আড্ডায় যে কি পরিমাণ গীবত বা পরনিন্দা চর্চা হয় তা না শুনলে বুঝা যাবে না।

একটি গল্প প্রচলিত আছে এরকম- আলমনগরের হেকিমপুর গ্রামের ঘটনা। খাঁ বাড়ির চাচা কাজীবাড়ির ভাতিজা, মোল্লাবাড়ির দাদারা সবাই মিলে নিয়মিত আড্ডা দিত। মুন্সী বাড়ির মেধাবী ছাত্র তারেকের পরিবারের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করতে গিয়ে একজন বলল, কাউল্লা মাস্টারের (আসল নাম কালাম) পোলা তারিক্কারে নাকি স্কুলে ভর্তি করাইছে, অন্যজন বলল ভর্তি করালে কি হবে পাশ করতে পারব না।

পাশ করার সংবাদ শুনে আরেকদিন বলল, পাশ করলে কি হবে চাকরি পাবে না। চাকরিও যখন হল, এবার সমালোচনা করল তাতে কি এসব চাকরিতে বেতন পাবে না। বেতনও যখন পেল এবার বলল, তাতেও লাভ নাই, বেতনে বরকত হবে না।

বরকতপূর্ণ ওই পরিবার যখন ভালই চলছিল তখন সমালোচনা করল, এরা কবরে গিয়ে শান্তি পাবে না। নিন্দা সমালোচনা কবর পর্যন্ত চলে গেল।

এরকম গল্প আর আড্ডায় সবাই খুব মজা পায়। চা-কফি পান আর গীবতের বাণে-জেয়ারে চায়ে কিন্তু চিনিও লাগে না।

এক চায়ের আড্ডায় গ্রাম্য মাতবর-মেম্বার বসে চা পান করছিল আর অনুপস্থিত ব্যক্তিদের