বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


একজন নীরব সাধক, পীরে কামেল ও মুখলেস মানুষের কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা মুহাম্মদ আমিনুর রশিদ

আল্লাহ তায়া’লার প্রিয় সৃষ্টি এই পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার জন্য যুগে যুগে এমন কিছু মানুষ দুনিয়াতে প্রেরিত হয়েছেন, যাদের পেয়ে দুনিয়া গর্বিত। যাদের স্পর্শে সভ্যতা ফিরে পেয়েছে প্রাণচঞ্চলতা।

মানবজাতির গর্বিত এই শ্রেণির অগ্রভাগে রয়েছেন নবী-রাসুলগণ আ.। নবী-রাসুলগণের এই ধারাক্রম হযরত আদম আ. থেকে শুরু করে খাতামুন্নাবীয়্যিন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এসে পরিসমাপ্তি ঘটে।

নবী-রাসুলগণের পর একাজ আঞ্জাম দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে ‘ওয়ারাসাতুল আম্বিয়ার’ ধারা। ওয়ারাসাতুল আম্বিয়ার এই ধারায় নবী-রাসুলগণের পর তাঁদের পদাংক অনুসরণে যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন হযরাতে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী’ন, তাবে তাবেয়ী’ন, আইয়িম্মায়ে মুজতাহিদ্বীন, আওলিয়ায়ে কেরাম, ওলামায়ে কেরাম ও মশায়েখে ই’জামগণ।

নবুওয়াতী ধারার এই গুরু দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়ার সূত্র ধরেই আমাদের এই ভারত উপমহাদেশে তথা বাংলাদেশেও প্রেরিত হয়েছেন অসংখ্যা ধর্মপ্রচারক অলি আল্লাহ।

জামিয়া আহলিয়া হাটহাজারীর প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ের শেরপুরস্ত ও মহান মুরব্বি, শায়খুল মাশায়েখ আল্লামা শাহ্ জমির উদ্দিন রহ. এর অন্যতম খলিফা, চট্টগ্রাম পটিয়া জমিরিয়া কাছেমুল উলুম মাদরাসা (আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া) এর প্রতিষ্ঠাতা মুহ্তামিম, কুতুবুল আক্তাব, হাদিয়ে মিল্লাত আল্লামা মুফতি আজিজুল হক রহ. ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম।

তারই সুযোগ্য উত্তরসুরী ও ছাহেবজাদা, মুর্শিদে কামিল, মুসলিহে উম্মত, আলহাজ মাওলানা হাফেজ মাহবুর রহমান রহ.।

তিনি ১৩৫৭ হিজরী সন মোতবেক ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে পটিয়া চরকনাই গ্রামে নিজ পিতৃলয়ে জম্ম গ্রহণ করেন। ছিদ্দিকী বংশের এই নক্ষত্রের বংশ পরিক্রমা পরস্পর মিলিত হয়ে ইব্রাহিম গোরির সাথে মিলিত হয়েছেন।

হযরতকে তার বাবা কুতুবুল আকতার আল্লামা মুফতি আজিজুল হক রহ. সর্বপ্রথম তার গৃহ শিক্ষক হযরত কারী মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ রহ. এর কাছে নুরানী কায়দা ও কুরআন শরীফ শিক্ষা করার ব্যবস্থা করেন।

এরপর মাত্র ৬-৭ বছর বয়সে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার হেফজ বিভাগে মাওলানা হাফেজ নুরুল ইসলাম (ছিপাতলী, হাটহাজারী) রহ. এর কাছে পবিত্র কুরআন হেফজ করার জন্য ভর্তি করে দেন।

হেফজ শেষ করে ১৩৭০ হিজরী সনে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ায় ‘জামাতে ইয়াজদাহুমে’ ভর্তি হন