বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


মাস্তানতন্ত্র জিন্দাবাদ, নিয়মনীতি মুরদাবাদ-২

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আলী আবদুল মুনতাকিম
অতিথি লেখক

গত সপ্তাহে লিখেছিলাম মাস্তানির টাকায় কেনা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং একই পরিবারে একটির বেশি গাড়ি না কেনার নিয়মনীতি আরোপ করতে। বন্ধুমহলে লেখাটি এত সাড়া জাগাবে বুঝতে পারিনি। যারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাদের প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে আজকের বিষয়ে যেতে চাই।

ফুটপাথ দখল ও চাঁদা়বাজি নিয়ে দুএকটি কথা বলতে চাই। বাংলাদেশের প্রায় সব শহরের ফুটপাথই হকারদের দখলে চলে গেছে। দেশটা গরিব। লাখ লাখ বেকার যুবক বিনা কর্মে হতাশাগ্রস্ত বা বিষাদগ্রস্ত হয়ে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ায়। তাদের অনেকেই কিছু একটা করে খাওয়ার মানসে রেডিমেট গার্মেন্টস বা কাপড় জুতাসহ নানারকম পসরা সাজিয়ে ফুটপাথে বসে যায়। কাস্টমারও রাস্তায় জিনিস পেলে দোকানে ঢুকতে চায় না। বাস জমে যায় ব্যবসা।একেবারে রমরমা।

ফুটপাথে আপনি কি পাবেন না, জুতা, সেন্ডেল, ফিতা, মোজা, গেঞ্জি, লুঙ্গী, জাঙ্গিয়া, পেন্ট, ভেষজ ওষুধ, শাড়ি, শার্ট, চাদর, পেস্ট, ব্রাস, সাবান, কস্মেটিকস, ভাত-মাছ, ফাস্টফুড, স্লো ফুড, কাগজ পেন্সিল, বেটারি, ক্রোকারিজ, সবধরনের ফল, ফুল, মিষ্টি দই, ফোসকা, চটপটি, পত্রিকা, ভবিষ্যত দ্রষ্টা আর তাদের টিয়া পাখি ইত্যাদি।

মজার ব্যাপার হচ্ছে ফুটপাথে এমন অনেক আইটেম আছে যা দোকানে পাওয়া যায় না।ফুটপাথ বন্ধ থাকলে হকার শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয় না অনেক গ্রাহক ও বিপদে পড়ে যান। হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয় ফুটপাতে। কিন্তু এই হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয় শত কোটি টাকার চাঁদার বিনিময়ে।

চাঁদার টাকা কেউ বকেয়া রাখতে পারে না। যেমন করে সিএনজি পাম্পে কেউ বকেয়া গ্যাস নেয় না বা সিনেমা দেখার টাকা কেউ বকেয়া রাখতে পারে না। ফুটপাতে একদম কাঁচা টাকা। নগদ নারায়ন। টাকায় মৌ মৌ গন্ধ। কিন্তু এই কাঁচা টাকার দখল নিতে যে কত রক্ত ঝড়ে তার খবর কতজন রাখে? আন্ডারগ্রাউন্ডে মাস্তানে-মাস্তানে খুনোখুনি যেন পান্তাভাত।

ফুটপাথে যারা হকারি করে তাদের এরিয়া ভাগ করা আছে। যেমন ভাষানী স্টেডিয়াম বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম হয়ত একজন নিয়ন্ত্রণ করে, বায়তুল মোকাররমের চতুর্দিক ও উত্তরগেট অন্যজন নিয়ন্ত্রণ করে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ একজন,  গুলিস্তান হল মার্কেট এরিয়া আরেকজন নিয়ন্ত্রণ করে। ঢাকা ট্রেড সেন্টার এরিয়া ও নবাবপুরের মুখে সুন্দরবন মার্কেট এলাকা আলাদা নিয়ন্ত্রক রয়েছে।

এমন শত এলাকার নাম বলা যাবে। নিউ মার্কেট নীলক্ষেত থেকে বাড্ডা খিলক্ষেত, মিরপুর-দিয়াবাড়ী থেকে সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ী, চট্রলা, মংলা, প