সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ ।। ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২১ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনের নিন্দা হেফাজতে ইসলামের ‘ইসলামী আন্দোলনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানুষের আস্থা ধরে রাখা’ ‘ছাত্র-জনতার রক্ত নিয়ে তামাশা করতে কাউকে সংসদে পাঠানো হয়নি’ হারাম দৃষ্টি কেড়ে নেয় হালাল সৌন্দর্য মাদরাসাবিরোধী একপাক্ষিক প্রচারণা বন্ধে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদের  সব আলিয়া মাদরাসায় প্রতিদিন পিটি ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক নওমুসলিমদের পুনর্বাসনে খাইরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের অনন্য উদ্যোগ প্রতিবাদের ভাষায় অশ্লীলতা: সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন সংকট মাদরাসা শিক্ষার ভূয়সী প্রশংসা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর আওয়াবিন নামাজের ফজিলত ও নিয়ম

চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয় রুপাকে: ধর্ষকের স্বীকারোক্তি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কলেজছাত্রী রুপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করে লাশ মধুপুরে বনে ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ৫ পরিবহন শ্রমিকের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তারা। জবানবন্দিতে তারা চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

বেওয়ারিশ হিসেবে শনিবার টাঙ্গাইলের মধুপুরে এই তরুণীর লাশ দাফন করা হয়েছিল। সোমবার তার পরিচয় মিলেছে। তার নাম রুপা প্রামাণিক (২৫)। তিনি সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জিলহাস প্রামানিকের মেয়ে।

তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ঢাকা আইডিয়াল ল’ কলেজে এলএলবি শেষ পর্বের অধ্যয়নরত ছিলেন।

পাশাপাশি ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রমোশনাল বিভাগে শেরপুর জেলায় কাজ করতেন তিনি।

পুলিশ ও ওই তরুণীর পারিবারিক সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রুপা বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে সন্ধ্যা সাতটার দিকে রওনা হন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুপুর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আসামিরা পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ওই দিন রুপা ছাড়াও মাত্র পাঁচ/ছয়জন যাত্রী বাসে ছিল। রুপা ছাড়া অন্য সব যাত্রীরা সিরাজগঞ্জ মোড় এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তে নেমে যায়। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার সময় রুপা একাই বাসে ছিলেন।

গ্রেফতার হওয়া তিন বাস শ্রমিকবাসটি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কাছাকাছি এলে বাসের হেলপার শামীম রুপাকে জোর করে বাসের পেছনের আসনে নিয়ে যায়।

এসময় রুপা তার কাছে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ও মোবাইলফোন শামীমকে দিয়ে তাকে ধর্ষণ না করতে অনুরোধ করে। কিন্তু শামীম জোরপূর্বক প্রথমে রুপাকে ধর্ষণ করে। পরে অপর হেলপার আকরাম ও জাহাঙ্গীর তাকে ধর্ষণ করে।

বাসটি ঘাটাইল উপজেলা এলাকা অতিক্রম করার সময় রুপা কান্নাকাটি ও চিৎকার করা শুরু করলে তারা তিনজন মুখ চেপে ধরে।

একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রুপাকে হত্যা করা হয়। পরে মধুপুর উপজেলা সদর অতিক্রম করে বন এলাকা শুরু হলে পঁচিশ মাইল নামক একটি জায়গার রাস্তার পাশে লাশ ফেলে রেখে চলে যায়।

শুক্রবার রাতেই পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

শনিবার টাঙ্গাইল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়।

পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা মধুপুর থানায় দায়ের করে।

এদিকে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত রুপার সঙ্গে তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান প্রামানিকের মোবাইলফোনে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু তারপর থেকেই রুপার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান হাফিজুর রহমান।

পরদিন শনিবার কোনো খোঁজখবর না পেয়ে হাফিজুর ময়মনসিংহ যায় এবং ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরে মধুপুর বনাঞ্চলে একজন তরুণীর লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে হাফিজুর সোমবার রাতে মধুপুর থানায় যান। থানায় সংরক্ষিত লাশের ছবি দেখে রুপার লাশ শনাক্ত করেন।

পরে পুলিশ সোমবার রাতেই বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী ছোঁয়া পরিবহন বাসটি মধুপুর অতিক্রম করার সময় চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়।

এদিকে মঙ্গলবার বিকাল চারটার দিকে গ্রেফতারকৃত বাসের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে নেয়া হয়।

আকরাম ও জাহাঙ্গীরের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। শামীমের বাড়ি মুক্তাগাছার নন্দিবাড়ি।

টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া আসামিদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

গ্রেফতার অপর আসামি বাসের চালক হাবিব (৪৫) এবং সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) বুধবার আদালতে হাজির করা হবে।

তাদের দু'জনের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলা মির্জাপুর গ্রামে।

মধুপুর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, চালক ও সুপারভাইজার ধর্ষণে অংশ না নিলেও তাদের সামনেই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং তারা লাশ ফেলতে সহায়তা করেছে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম পিপিএম বলেন, মেয়েটির লাশ উদ্ধারের পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে। পরে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ