আলমগীর নিষাদ
কমিউনিজম ও বাঙালি সংস্কৃতি: ইসলাম নিজেকে ‘ধর্ম’ দাবি করেনি। ইসলামে কাঠামোগত ধর্মের ধারণাটি এসেছে খ্রিস্টানিটি থেকে, খ্রিস্ট ধর্মের প্রভাবেই ইসলাম ‘রিলিজিয়ন’ হয়ে ওঠে। ইসলাম হলো সার্বিক জীবনব্যবস্থা বা দ্বীন। এই দ্বীনের নাম ইসলাম। বর্তমান মুসলিম বিশ্বে ইসলামের কয়েক রকম ভার্সন দেখা যায়। দ্বীনের মতবাদগুলোর পারস্পরিক সংঘাতও আছে, এগুলো অনৈক্যের পরিচয় নয়। বরং তা রাজনৈতিক প্রকল্প ও তাত্ত্বিক বিচার-ফিকাহর চলমানতা ও হালাল-হারামের বাহাস। প্রশ্ন, ইসলামের এসব মতবাদের সহিত্ব বিচার করবে কে। নিঃসন্দেহে কোরআন-হাদিস ধারণকারী মুমিন জনগণ। কারণ, আসমান থেকে আল্লাহর ফয়সালা (ওহি) আসার সুযোগ ইসলামে আর নেই। তাই একমাত্র দ্বীন প্রতিষ্ঠার নিরিখেই মতবাদের সহিত্ব নিরুপণ হতে পারে।
ইসলামে ন্যায়বিচার ও ভাবাদর্শ চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ ভাবাদর্শ দিয়ে দুনিয়ায় ইসলাম প্রচারের ঐতিহাসিক শিক্ষা মুসলমানদের কাছে এখন গৌণ হয়ে গেছে। ভাবাদর্শ দিয়ে তাওহিদ প্রচারে নবীর (সা.) পথ নতুন করে আবিষ্কারের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নামাজ কামাই দিলে যেমন গুনাহ হয় তেমনি ক্ষুধার্থ পেটে কেউ ঘুমাতে গেলে প্রতিবেশিকে গুনাহগার হতে হয়। যেকোনো মানবিক সেবার মাধ্যমে রোজগার করা যায় পরলোকের সওয়াব।
সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা মুসলমানের কাছে নামাজ-রোজার মতো ধর্মপালন। তাই, ইসলামের বাইরে ন্যায্য ও মর্যাদামূলক সমাজের প্রতি ইসলামের দরদি থাকার কথা। সে হিসাবে মার্কসীয়-লেনিনীয় মতবাদের সঙ্গে ইসলামের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক মিত্রতা গড়ে ওঠার কথা ছিল। হযরত মুহম্মদের (সা.) আবির্ভাবের পর আর কোনো ‘ধর্ম’ প্রতিষ্ঠা পায়নি। ‘মতবাদ’ হিসেবে এসেছে একমাত্র কমিউনিজম। কমিউনিস্টরা অর্থনৈতিক শোষণ নিঃশেষের মন্ত্র প্রচার করেছে। কিন্তু খোদায়ী ‘ইমান-আকিদার’র অনুপস্থিতির কারণে ইসলাম মার্কসবাদকে সুনজরে বিবেচনা করেনি।
শ্রমকে মানবচরিত্রের মৌলিক উপাদান বিবেচনা করে এগোলেও কার্ল মার্কসের শ্রমশোষণ ধারণার সাথে মিত্রতা আছে ইসলামের ‘শ্রমের মজুরি’ তত্ত্বের। ন্যায্যমজুরি ধার্যের ক্ষেত্রে মার্কসবাদ সমাজে বিদ্য