মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

পৃথিবীর পথে পথে (৩)

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতী তাকী উসমানী। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বিভাগের সাবেক প্রধান বিচারপতি। জাগতিক ও ধর্মীয় দু’শিক্ষায় শিক্ষিত বিদগ্ধ পণ্ডিত। ঘুরেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। এশিয়া থেকে ইউরোপ। হিমালয় পাদদেশ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেখেছেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অসংখ্য নিদর্শন। নিরীক্ষণের আঁতশী কাঁচের নিচে রেখে দেখেছেন সময়ের চঞ্চল প্রবাহ। আওয়ার ইসলামের পাঠকবর্গের জন্যে তার সেই ভ্রমণকাহিনী অনুবাদ করেছেন  নন্দিত অনুবাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফারুক। এখন থেকে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে শায়খ তাকী উসমানীর  ভ্রমণ কাহিনী।

বাগদাদের জন্মকথা

আমাদের রুম ছিলো হোটেলের দশম তলায়। এখান থেকে আমরা বাগদাদের অর্ধেক এলাকার ওপর অনায়াসে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিলাম। দৃষ্টির সীমা জুড়ে বিস্তৃত ইতস্তত আলোকরশ্মি কেমন যেনো মাটির ওপর তারা ভরা আকাশের দৃশ্য তৈরি করেছে। সময়টি ছিলো মাঝরাত। বিছানায় এলিয়ে দিয়েছিলাম শরীর।

কিন্তু মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছিলো বাগদাদের বর্ণিল ইতিহাসের বিক্ষিপ্ত পাতাগুলো। এই ভুখণ্ড মুসলমানদের উত্থান ও পতনের কত দৃশ্যই না দেখেছে? জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সে কী বিশাল মহীরুহ এই মাটিতে জন্ম নিয়েছে? ভাষা ও সাহিত্যের কত যে আসর সেজেছে এই মাটির ওপর? খোদাভীরুতা ও সত্যিকার নিষ্ঠার কী অনুপম দৃষ্টান্ত এখানে স্থাপিত হয়েছে? আজকের পৃথিবীতেও এই মাটিতে আমাদের উজ্জ্বল ইতিহাসের কত সূর্য ও চন্দ্র এখনো পূর্ণমাত্রায় আলো বিলিয়ে চলেছেন? আল্লাহু আকবার!

মুসলমানরা প্রথম যখন ইরাক জয় করেন, তখন বাগদাদ উল্লেখযোগ্য কোনো শহর হিসেবে পরিগণিত হতো না। কিসরার শাসনামলে এটি ছিলো দজলার পশ্চিম পাড়ের একটি ক্ষুদ্র জনপদ মাত্র। কথিত আছে, সে সময়কার ইরান সম্রাট তার এক মূর্তিপূজারী চাকরকে এ এলাকা জায়গীর রূপে দান করেছিলেন। সেই চাকরের উপাস্য মূর্তিটির নাম ছিলো ‘বাগ’। সে কারণে সে এই এলাকার নাম রেখেছিলো ‘বাগদাদ’ (বাগ মূর্তির দান)। যার কারণে অনেক আলেম শহরটিকে বাগদাদ নামে ডাকতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন না।

হযরত উমর রা. এর যুগে কুফা ও বসরার মতো নগরীগুলো আবাদ করা হয়। কিন্তু এ এলাকাটি পূর্বের মতো পড়ে ছিলো। আব্বাসি শাসনামলে খলিফা মানসূর কুফা ও হিরা; এই দুই নগরীর মাঝখানে ‘হাশিমিয়া’ নামে একটি নগরের গোড়াপত্তন করেছিলেন। কিন্তু রাবনীদের বিদ্রোহের কারণে তার সেই পরিকল্পনা সাফল্যের মুখ দেখে নি। ওদিকে কুফার লোকদের রাষ্ট্রদ্রোহের কথা সকলই কম-বেশি জানেন। এ কারণে সেখানে রাজধানী স্থাপন করতে তার মন