আমিনুল ইসলাম হুসাইনী
পৃথিবীর যে কয়েকটি প্রাণীর নাম শুনলে মানুষ আতকে ওঠে, তার মধ্যে সাপ অন্যতম। সাপকে ভয় পায় না, এমন মানুষের সংখ্যা একেবারেই হাতে গোণা।
সাপ নাম শুনলেই বিচলিত হওয়া যেন আমাদের একটি নীতিগত অভ্যাস। কেন না এটি একটি ভীতিকর এবং প্রাণসংহারী প্রাণী। প্রতিবছর অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি হয় এর বিষাক্ত ছোবলে। তাই সাপ নাম শুনলেই আমরা অন্তত দশ হাত দূরে থাকার চেষ্টা করি। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে সাপকে আমরা যতটুকু না ভয় পায়, সাপ আমাদের তার চেয়ে শতগুণ ভয় পায়। সে জন্যই দেখবেন কোনো মানুষের উপস্থিতিতে সাপ কতটা দ্রুত পলায়ন করে। সাপকে যদি নিরীহ প্রাণী বলি তাহলে হয়ত অনেকেই অবাক হবেন, তবে তার চেয়ে অবাক হওয়ার মত কথা হলো সাপ আমাদের পরম উপকারী বন্ধু। যে সাপের ভয়ে মানুষ জড়সড়, যে বিষের কারণে মানুষের প্রাণহানি ঘটে, সেই সাপ আর সাপের বিষই কিন্তু মানব দেহের রোগ নিরাময়ের অন্যতম
প্রতিষেধক।
সম্প্রতি সাপ নিয়ে উন্নত বিশ্বের গবেষণাগারে এটা প্রমাণিত হয়েছে, ক্যান্সার নিরাময়ে সাপের বিষ এক অনন্য নিয়ামক। ব্যাঙ্গোর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ড. উলফগ্যাং উস্টার জানান, 'বিষধর সাপের বিষ মানুষের নানা জটিল রোগের প্রতিষেধক।' ফ্রাঙ্কফুর্টের জীবরসায়নবিদ ইয়োহানেস এব্লে বলেন, 'সাপের বিষ হৃদ রোগের ঝুকি কমায়।'
আরেক গবেষক, ড. ক্যাজ ওয়েল মনে করেন, 'সাপের বিষ ঔষুধ শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।' আর এ জন্যই রসায়ন গবেষণাগারে সাপের বিষ একটি মূল্যবান উপাদান।
জেনে নিশ্চয় অবাক হবেন এই ভেবে যে, উন্নত বিশ্বের ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি, অস্ট্রিয়াসহ যেসব দেশ রাসায়নিক মৌল বা যৌগ উপাদান তৈরি করে, সেসব দেশে এক আউন্স সাপের বিষের দাম হচ্ছে এক কোটি টাকা। এছাড়াও সাপ আমাদের অারো অনেক উপকার করে থাকে। এই যেমন ফসলী জমির ইঁদুর ও পোকা মাকড় খেয়ে কৃষকের ফসলকে অনিষ্টতার হাত থেকে রক্ষা করা, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিকরা ইত্যাদি। তাছাড়া সাপের চমৎকার কারুকার্যময় চামড়া দিয়ে তৈরি করা হয় নানান রকম সৌখিন জিনিসপত্র।
সাপ হচ্ছে সরীসৃপ প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত লম্বা বেলনাকার পা-হীন মেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের দেহ অাঁশ দ্বারা আবৃত। সাপ মানুষের আবাস্থল বাড়ি,গভীর জঙ্গলের মাটিতে, মাটির নিচে গর্তে বা সুড়ঙ্গে, গাছে ও পানিতে থাকে। প্রায় সব সাপই সাঁতার কাটতে পারে।
সাপ বছরে কয়েকবার খোলস বদলায়। এদের কোনো বহিঃকর্ণ নেই, যেজন্য বায়ুবাহিত শব্দ নিখুঁতভাবে গ্রহণ করতে পারে না। তবে মাটি বা অন্য যে মাধ্যমে এরা থাকে তা থেকে শব্দ তরঙ্গ নিচের চোয়াল ও কোয়াড্রেট অস্থির মাধ্যমে অন্তঃকর্ণ গ্রহণ করতে পারে। সাপের কান ও চোখের পাতা নেই। চোয়ালের