মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


ট্রাম্প কি মুসলমানদের জন্য সত্যিই আতঙ্কের?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মওলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান
wahiduddin-khanরিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমেরিকা তার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে। আগামী বছর ২০ জানুয়ারি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রেট নেতা বারাক ওবামা তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন। হিলারি ক্লিন্টন-ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণাই সম্ভবত দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক আর উত্তাপ ছড়িয়েছে। অভিবাসী এবং স্থানীয় মুসলমানদের নিয়ে করা ট্রাম্পের রুঢ় মন্তব্যগুলো চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এমনকি ট্রাম্প আমেরিকায় মুসলমানদের প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবিও করেছিলেন। নির্বাচনপূর্ব এসব মন্তব্যকে মুসলমানরা তাদের প্রতি অপমান হিসেবে ধরে নিয়েছেন। নির্বাচনের পর বহু আমেরিকান মুসলমান হতাশা আর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন মুসলমান কলামিস্ট লিখেছেন, এই প্রথম আমেরিকা ইসলামের জন্য আতংকের প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করল।
এ ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আমেরিকান মুসলমানদের জন্য সুখকর নয়। এসব আখেরে আমেরিকায় মুসলমানদের ভাবমূর্তিকেই সংকটে ফেলবে। আমেরিকান মুসলমানদের আবেগী হওয়া উচিত হবে না। এ ক্ষেত্রে বরং ইসলামের চিরপ্রাসঙ্গিক শিক্ষার অনুসরণ করা প্রয়োজন। এ ধরনের ব্যাপারগুলোতে ইসলাম প্রতিক্রিয়া দেখানোকে উৎসাহিত করে না; মুসলমানদের স্বভাবসিদ্ধ চিরন্তন মূলনীতির ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দেয়।
কোরআন মতে, প্রাচীন মিসরে আল্লাহ মুসাকে নবী হিসেবে পাঠান। তখন মিসর একজন স্বৈরাচারী ও অহংকারী ফারাও দ্বারা শাসিত হচ্ছিল। আল্লাহ যখন মুসা এবং তার ভাই হারুনকে ফারাওয়ের কাছে পাঠালেন, তখন তাদের বলে দিলেন, ‘তোমরা উভয়ে ফিরাওনের কাছে যাও, সে তো সীমালংঘন করেছে। তবে তোমরা তার সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলবে; হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে’। সুরা তা-হা, আয়াত: ৪৩ ও ৪৪
কোরআনের এ আয়াত শিক্ষা দেয়, বিশ্বাসীদের উচিত সবার সঙ্গে সদ্বব্যবহার করা এবং সাধারণভাবে নিজেদের পরিচিত করানো। বিশ্বাসীদের উচিত সর্বাবস্থায় ইতিবাচক আচরণ করা। ইসলামের শিক্ষানুযায়ী, বিশ্বাসীদের প্রতিটি কাজই হওয়া উচিত উচ্চতর নৈতিকতায় পরিশুদ্ধ।
প্রাচীন মক্কায় ইসলামের নবী ধর্মবাণী প্রচারে সচেষ্ট হলে দুজন ব্যক্তি, আমর ইবনে হিশাম এবং উমর ইবনে খাত্তাব তার প্রাধানতম শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হন। নবীজি তখন তাদের অভিশাপ দেননি বা তাদের বিরুদ্ধে অপভাষাও ব্যবহার করেননি। বরং তাদের জন্য প্রার্থনা করলেন, ‘হে প্রভু, এ দুজনের যে কোনো জন দ্বারা আপনি ইসলামকে শক্তিশালী করুন’। আমরা জানি, নবীর এই দোয়া উমর ইবনে খাত্তাবের ক্ষেত্রে গৃহীত হয়েছিল। তিনি à