আমিনুল ইসলাম হুসাইনী : পশ্চিম আকাশে এক চিলতে বাঁকা চাঁদের হাসিতে বিশ্ব মুসলিম আজ পুণ্যের আলোয় উদ্ভাসিত। তৎপর পুণ্যময় ব্যস্ততায়। কেননা এ যে মাহে রমজানের চাঁদ। আর মাহে রমজান মানেই পুণ্যের বসন্তকাল।
রমজান মাস, কল্যাণ, ক্ষমা আর মুক্তির মাস। আত্মসংযম আর আত্নশুদ্ধির মাস। এ মাসের মর্যাদা অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি। এ মাস সম্পর্কে রাসূলে কারীম সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি নফল কাজ করবে সে ওই ব্যক্তির সমান যে অন্য মাসে একটি ফরয আদায় করল।’ ( মিশকাত শরীফ, ১৮৬৮)
মাহে রমজানের রহমতের দশ দিন বিদায় নিয়ে শুরু হয়েছে মাগফিরাতের দশ দিন। এভাবে বিদায় নেবে মাগফিরাত আর নাজাতের দশ দিনও। কিন্তু আমরা মাহে রমজানের ফয়েজ কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি?
প্রতিবছর রমজান আসে মুমিনের হৃদয় মিনারে প্রোজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে। রমজান আসে সাম্য-মৈত্রী গড়ে তোলার দ্বীপ্ত শপথ নিয়ে। কবি রমজানকে বরণ করেন নিখিলের চির কল্যাণ হিসেবে, ‘তোমারে সালাম করি নিখিলের হে চির কল্যাণ/ জান্নাতের পুণ্য অবদান।'
রমজান মাস শুদ্ধ হওয়ার মাস। প্রতি বছর রমজান আসে রমজান যায়, কিন্তু আমরা কি শুদ্ধ হতে পারি? রমজান মাস আত্নসংযমের মাস, কিন্তু আমরা কি আত্নসংযমী হতে পেরেছি? রমজান মাস সৌহার্দ-সম্প্রীতি, পরোপকার, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মাস, কিন্তু আমরা কি নিজেদের মাঝে এ গুণগুলো অর্জন করতে পারি? বরং রমজানকে কেন্দ্র করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারেই আমরা ব্যস্ত থাকি।
প্রতিবছর রমজান এলেই এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা খাদ্য-দ্রব্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। যে কারনে দ্রব্য-মূল্যের উর্ধগতি লাগামহীন হয়ে পড়ে। অথচ এভাবে বাড়তি মুনাফা লাভের জন্য পণ্য মজুদ রেখে অর্থ উপার্জন করা সম্পূর্ণ হারাম। হাদীসে এসেছে, ‘জনগণের জীবিকা সংকীর্ণ করে যে ব্যক্তি খাদ্য-দ্রব্য গুদামজাত করে সে অপরাধী। আর জেনে রাখো, সে গুনাহগার সাব্যস্ত হবে।’ -সহিহ মুসলিম ১৬০৫ অন্য হাদীসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আমদানি করবে সে রিজিক প্রাপ্ত হবে, আর যে ব্যক্তি গুদামজাত করবে সে অভিশপ্ত হবে।’ -ইবনে মাজাহ ২১৪৪
অপরদিকে সমাজের বিত্তবানরা রসজানে খাবারের ক্ষেত্রে অসংযমী হয়ে পড়েন। ইফতার সেহরীতে ১০-২০ পদ খাবার নিয়ে বসেন। যতটুকু খান তার চেয়ে বেশি অপচয় করেন। অথচ এভাবে অপচয় à