শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইসলামি শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ৩০ পেরিয়েছেন? সুস্থ থাকতে গড়ে তুলুন ৭ অভ্যাস জমজমের বরকতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা দেশমাতৃকা উলামায়ে কেরামের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে: মুফতি আবুল হাসান এমপি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজদের মধ্যে ব্রেইল কুরআন ও সাদাছড়ি বিতরণ দেশে ফিরেছেন সৌদি আরবে আটকে পড়া ৫০ ওমরাহযাত্রী মাওলানা নূরুল হক রহ.-এর কবর জিয়ারত করলেন খেলাফত মজলিস আমির ঢাবির গবেষকদের ‘স্মার্ট ফাঁদে’ শনাক্ত হবে এডিস মশার বিস্তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের ভারত থেকে কেনা ২০০ রেলকোচের প্রথম ১৮টি দেশে পৌঁছেছে

ক্লাসে হঠাৎ অসুস্থ ১৫ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নোয়াখালীর হাতিয়ায় একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে হঠাৎ তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে একে একে অন্তত ২৭ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অসুস্থদের মধ্যে ১৫ জনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণের পর বাড়িতে পাঠানো হয়। 

এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুরো এলাকায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই ওই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টায় স্বাভাবিক নিয়মেই বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে সপ্তম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ এক ধরনের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ অনুভূত হয়। এর পরপরই চারজন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যায়। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠানো হলে সেখানে তাদের জ্ঞান ফিরে আসে।

এর কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও একই ধরনের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। একে একে আরও প্রায় ২০ থেকে ২২ জন শিক্ষার্থী তীব্র শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা ও অস্বস্তি বোধ করতে থাকে এবং কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আকস্মিক এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষক ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থদের দ্রুত হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে ফাতেমা বেগম (১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১২), জামেলা বেগম (১৪), সুরাইয়া আক্তার (১৩) এবং পারভিন আক্তার (১৫)। অসুস্থ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি; তবে তাদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী গ্রামে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা মানসুর উদ্দিন জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয় এবং তাদের ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় বেশ কয়েকজনের জ্ঞান ছিল না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় জানান, রোগী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে কোনো ধরনের ঝাঁঝালো গন্ধের সংস্পর্শে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কয়েকজনের জ্ঞান এখনো পুরোপুরি ফেরেনি। তাদের জরুরি চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক কি-না, তা পরবর্তী ১২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানান, প্রথমে কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হলে তাদের প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আরও শিক্ষার্থী একইভাবে অসুস্থ হতে থাকলে পুরো বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং আক্রান্তদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে গন্ধটি কোনো বিষাক্ত গ্যাসের নাকি অন্য কোনো রাসায়নিকের, তা তারা বুঝতে পারেননি। 

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে যান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল এবং হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সর্বোচ্চ সেবার নির্দেশ দেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার খবরে হাসপাতালে স্বজন ও উৎসুক জনতার ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ও চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে হাসপাতাল চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ঝাঁঝালো গন্ধের উৎস কী ছিল, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ