চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম হাটহাজারী সফর করেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং জামিয়াতুন নূর আল কাসেমিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী।
সফরকালে মঙ্গলবার (১৯ মে) তাঁরা জামিয়ার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে পারস্পরিক সালাম ও কুশল বিনিময়ের পর ইসলামী শিক্ষা, দাওয়াহ কার্যক্রম, উম্মাহর সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং মুসলিম স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিছু এনজিও ও মিশনারি গোষ্ঠীর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আলোচনায় বলা হয়, এসব অঞ্চলে প্রতারণামূলক ও চাতুর্যপূর্ণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরলপ্রাণ মানুষের ঈমান ও আকিদা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে উলামায়ে কেরাম ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
জামিয়ার মহাপরিচালক বলেন, মিশনারি প্রভাবিত এলাকাগুলোতে দ্বীনি শিক্ষা, দাওয়াহ কার্যক্রম ও মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। এজন্য সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার সিনিয়র মুফতি ও মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন, শিক্ষাসচিব ও মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি কিফায়াতুল্লাহ, মুহাদ্দিস মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী এবং মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমদ প্রমুখ।
পরবর্তীতে মেহমানদ্বয় নূরানী তা’লিমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব ও জামিয়ার বিশিষ্ট মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীনের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময়ে অংশ নেন। সেখানে দেশব্যাপী নূরানী মাদরাসা ও ফোরকানিয়া মক্তব শিক্ষার সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
মতবিনিময়ে বলা হয়, শিশুকাল থেকেই সহীহ কুরআন শিক্ষা, ইসলামী আদর্শ ও নৈতিকতার ভিত্তি শক্তিশালী করতে নূরানী শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প নেই। একটি ঈমানদার ও নৈতিক প্রজন্ম গঠনে এ ধারা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন বলে মত আসে।
বেফাক মহাসচিব বলেন, নূরানী শিক্ষাব্যবস্থা একটি আদর্শ প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, সারা দেশে নূরানী মাদরাসার সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্য থাকা উচিত।
অন্যদিকে আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন জানান, বর্তমানে নূরানী তা’লিমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অধীনে প্রায় ১৫ হাজার নূরানী মাদরাসায় আনুমানিক ৪২ লাখ শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে। বিভিন্ন বোর্ড মিলিয়ে দেশে মোট নূরানী মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।
তিনি আরও বলেন, মুসলিম সমাজের প্রয়োজনের তুলনায় এ সংখ্যা এখনও অপ্রতুল। তাই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে নূরানী মাদরাসার সংখ্যা ৯০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
জেডএম/
