শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ।। ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১৭ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
আলেমদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছেন প্রধানমন্ত্রী ইন্তেকাল করেছেন দক্ষিণবঙ্গের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা জহুরুল হকের সহধর্মিনী  ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ১২৩০ নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি টিআইবির বাগেরহাট-১ আসনের ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ হাইকোর্টের জামায়াতে যোগদানের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন কবি মুহিব খান ইদ্রিস হত্যার বিচার দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল রমজানের অবহেলিত আমলটির নাম ইতেকাফ: শায়খ আহমাদুল্লাহ দারুননাজাত একাডেমিতে ম্যাথ কার্নিভাল ও অলিম্পিয়াড ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় তাকওয়ার নীতি অনুসৃত না হলে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি আসবে না’

অনুমতি ছাড়া অন্যের কিতাব ছাপানোর বিষয়ে আকাবিরদের মতামত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুযযাম্মিল হক উমায়ের

হজরত জায়েদ মাজাহেরী রহ. বলেন, হজরত কারি সিদ্দীক আহমাদ বান্দাবী রহ. সুল্লামুল উলূম কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ইসআদুল উলূম’ নামে লেখেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে যা ছাপানো সম্ভব হয়ে ওঠছিলো না। অনেক কষ্ট করে অবশেষে সেটিকে ছাপানো হয়েছিলো। আল্লাহ তায়ালার রহমতে সেটি সকলের কাছে ব্যাপকভাবে গৃহিত হয়েছিলো।

ব্যাপক চাহিদা দেখে অন্যান্য প্রকাশনীর মালিকরা সেটিকে হজরতের অনুমতি ছাড়াই ছাপানো শুরু করে দেয়। হজরত এই বিষয়টি জানতে পেরে অনেক অসন্তুষ্ট ও রাগ হলেন। সংকলনকারী নিজের কিতাব ‘আল ইলমু ওয়াল উলামা’ সম্পর্কে বললাম, আমার এই কিতাবটিও অন্যরা ছাপিয়ে দিয়েছে।

আমি এই মুহূর্তে কী করতে পারি হজরতের সাথে পরামর্শ করি। চুপ করে বসে থাকবো, না তাদের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো? হজরত বললেন, না। তাদের কাছে চিঠি লেখো। আশ্চর্যের বিষয়! একজন কষ্ট করে ঘাম ঝড়িয়ে কিতাব লেখে কষ্ট করে কোনভাবে সেটিকে প্রকাশ করবে, তখন অন্যরা সেটিকে বিনা কষ্টে ছাপানো শুরু করবে?

হজরত নিজের লেখিত একটি কিতাব একজনকে ছাপানোর জন্যে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই লোক ছাপানোর আগেই অন্যরা ছাপিয়ে প্রকাশ করে দিয়েছে। হজরত সেটি জানতেও পারেননি।

আমি সেটি হজরতকে জানালাম। তখন তিনি বললেন, আশ্চর্যের বিষয়! কমপক্ষে তো আমার সাথে আলোচনাটুকুও করে নিতে পারতো!! এইটুকু ভদ্রতা তো দেখাতে পারতো!!! তবে এখন যদি তাদেরকে কিছু বলি, তখন এটি তাদের কাছে খারাপ লাগবে। কিন্তু তারা যেটি করেছে, সেটি কেমন ভালো কাজ হয়েছে, সেই কথা ভুলে যাবে।

যারা আমার কিতাব ‘আল ইলমু ওয়াল উলামা’ আমার অনুমতি ছাড়া ছাপিয়ে ছিলো, হজরত তাদেরকে কাছে চিঠি লেখতে বলেছিলেন। আমি চিঠি লেখে হজরতকে সেটি দেখাই। হজরত সেই চিঠির কিছু অংশ কেটে দিলেন আবার কিছু অংশ নিজের থেকে যোগ করে দিলেন। তারপর বললেন, এটি তাদের কাছে পাঠাও।

সংকলনকারী বলেন, আমি কিতাব রেজিষ্টেশন করার বিষয়ে হজরতের কাছে মাসয়ালা জানতে চাই। হজরত বললেন, এই মাসয়ালা বিষয়ে আমার তাহকীক নেই। আমি বললাম, মাসয়ালা তো জায়েজ আছে। তবে সেটি করা ভালো হবে? না, ভালো হবে না? সেই বিষয়টি জানতে চেয়েছি। হজরত বললেন, তাহলে এতে সমস্যা কী। মাসয়ালা যেহেতু জায়েজ আছে, তাহলে রেজিষ্টেশন করে নাও।

সূত্র: মাজালিসে সিদ্দীক

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ