বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


কওমি মাদরাসা আসলে কী?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলিল ।।

কওমি মাদরাসা হল একটি বিপ্লবের নাম। একটি চেতনার নাম। হেরার মশালবাহী মকতবে ফিকরের নাম। হক ও হক্কানিয়্যাতের মজবুত দুর্গের নাম। ইকামতে দীনের পতাকাবাহী নিবেদিতপ্রাণ একদল মর্দে মুজাহিদ তৈরি করার কারখানার নাম। এই পৃথিবী নামক গ্রহে যত ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে ঐতিহ্য সম্পন্ন হলো কওমি মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থা। সবচেয়ে নির্ভুল ও সফল ঐতিহ্যের পতাকাবাহী আমাদের এসব কওমি মাদরাসা।

আমাদের এসব কওমি মাদরাসা নতুন কিছু নয়; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন তারই বর্তমান রূপ হলো আমাদের এসব কওমি মাদরাসা।

যার সূচনা আল্লাহ তাআলার ওহীর মাধ্যমে হয়েছিল। যার শুরু হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে। আর তা পূর্ণতা লাভ করেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। যে শিক্ষা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে মক্কার "দ্বারে আরকামে" ও মদিনার "সুফফায়" দিয়েছিলেন।

যে ইলম "কিতাবুল্লাহ" ও "রিজালুল্লাহ" এর সোনালী সূত্রে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, বুযুর্গানে দ্বীন তথা উলামায়ে হক্কানির মাধ্যমে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। কারণ বর্তমানের উলামায়ে কেরাম হলো পূর্ববর্তী নবীগণের উত্তরাধিকার বা প্রতিনিধি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "অবশ্যই আলিমগণ নবীদের উত্তরাধিকার। আর নবীগণ উত্তরাধিকার হিসেবে কোন দীনার বা দিরহাম রেখে যাননি; বরং তারা রেখে গেছেন মিরাস হিসেবে 'ইলম'। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম লাভ করেছে, সে পূর্ণ অংশ লাভ করেছে।" (সুনানের ইবনে মাজাহ, হাদিস ২২৩)

এসব কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য অনেক গভীরে। তার শিকড়ের মূলে রয়েছে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। এবং তার ডালপালা ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বব্যাপী। এসব কওমি মাদরাসায় যে ইলম শিক্ষা দেওয়া হয় তা নিছক কোন ইলম নয়; বরং তা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকামী ইলম।
সাহাবায়ে কেরামের পরিচয় দিতে গিয়ে রোমান গুপ্তচর বলেছিলেন, "তারা হলো রাতের আঁধারে প্রভুর দরবারে কান্নারত। আর দিনের বেলায় অস্বারোহী সৈনিক।" মূলত এর প্রতিকৃতি হল আমাদের এসব কওমি মাদরাসা।

কালের বিবর্তনে, সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একসময় ভারতের দেওবন্দে সেই সুফফার আদর্শ ও চেতনাকে লালন করে প্রতিষ্ঠা লাভ করে দারুল উলূম নামে একটি কওমি মাদরাসা। এই দারুল উলূম দেওবন্দই সেই মক্কার "দ্বারে আরকাম" ও মদিনার "সুফফার" বর্তমান রূপকে লালন করে। এই দারুল উলূম থেকে ইলমে নববীর সুধা পানে পরিতৃপ্ত হচ্ছে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।

কওমি মাদরাসার অবদান: অল্প কথায় যদি কওমি মাদরাসার অবদানের কথা বলি, তাহলে বলবো: রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে যারা সবচেয়ে বেশি সফল à¦