মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দেশের সব ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার কমিটি বাতিল ফ্রান্সে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কারফিউ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী আলিম পরীক্ষা ২০২৮, নম্বর বণ্টনসহ নতুন সিলেবাস প্রকাশ বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমান? জেনে নিন যেসব ঝুঁকি রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে হাতপাখার প্রচার রিকশা ভাঙচুর, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি দিল্লির রেসকোর্স মসজিদ ও কবরস্থান রক্ষার দাবি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ‘সমাজে নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইমামদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’ ‘মাওলানা হাবীবুর রহমানের ভূমিকা বাংলাদেশের ইসলামি আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে’ ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ বাচ্চাদের দুষ্টুমি কমাতে কোরআন-হাদিসের আমল ও করণীয়

ভাষার ভিত্তিতে আসামের মুসলিম সমাজে বিভাজনের রাজনীতি বিজেপির!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: চল্লিশ লাখ অসমীয়া ভাষী মুসলমানকে ‘ভূমিপুত্র’ মর্যাদা দিল আসাম সরকার। এই মর্মে মঙ্গলবার প্রস্তাব পাস হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্ত্রিসভায়।

রাজ্যের শাসকদলের বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে এটা বড় পদক্ষেপ। তবে, বিশ্লেষকদের একাংশের অভিযোগ, ভাষার ভিত্তিতে আসামের মুসলিম সমাজে বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি।

মঙ্গলবার আসামের পাঁচটি মুসলিম জনগোষ্ঠী– গোরিয়া, মোরিয়া, জোলা, দেশি ও সৈয়দ-কে ভূমিপুত্রের উপাধি দিয়েছে আসামের বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের কথা টুইট করে জানান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

টুইটারে তিনি লেখেন, ‘এই সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। পুরনো গাড়ি বাতিল, পাঁচটি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভূমিপুত্রের তকমা দেয়া, অনসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী ও সেনাকর্মীদের বিধবাদের জন্য প্রপার্টি ট্যাক্সে ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ভূমিপুত্রের মর্যাদা পাওয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক স্বকীয় পরিচয় রক্ষার পথ আরো সুগম হবে।

আসাম সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আসাম সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের আবেদনের ভিত্তিতেই এই শংসাপত্র তৈরি করছে রাজ্য সরকার। সরকারের যুক্তি, এর ফলে সহজে সংখ্যালঘুদের চিহ্নিত করা যাবে। তাদের জন্য একাধিক সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প রয়েছে, আলাদা দফতর রয়েছে। এবার সংখ্যালঘুদের চিহ্নিত করে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেয়া যাবে।

এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর গোরিয়া উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজউল আহমেদ বলেন, ‘আমরা ২০০৬ সাল থেকে আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য একটি পৃথক শ্রেণিভাগের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু যেহেতু এমন কিছু ছিল না, তাই আমরা বাংলাভাষী মুসলমানদের চাপে দূরে সরে যাচ্ছিলাম। আজকের সিদ্ধান্তের জন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, আসাম সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে উপকৃত হবেন এই পাঁচ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০ লাখ অসমীয়া ভাষী মুসলমানরা। সরকারের দাবি, এদের পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে ‘অনুপ্রবেশ’ করার কোনো প্রমাণ নেই।

এদিকে, বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই পদক্ষেপ করে আসামের মুসলিম সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। বলে রাখা ভালো, আসামের বেশিরভাগ মুসলিম বাসিন্দাই বাংলাভাষী। পূর্ববঙ্গের সাথে তাদের যোগ রয়েছে।

এদের অনেকেই দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই আসামে বসবাস করছেন। কিন্তু শুধুমাত্র অসমীয়া ভাষী মুসলিমদের স্বীকৃতি দিয়ে স্পষ্ট বিভাজনের রেখা টেনে দিয়েছে সরকার।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ