হাফেজ মাওলানা আশিকুর রহমান রাহমানি পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে আল্লাহ তা'আলা বছরকে বার মাসে বিভক্ত করেছেন। প্রতিটি মাসের রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য-মাহাত্ম্য। তার মাধ্যে কুরআনে বর্ণিত চারটি মাসে অন্যতম। এই মাসগুলো আল্লাহর কাছে অত্যান্ত সম্মানিত ও মহিমান্বিত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
اِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِیْ كِتٰبِ اللهِ یَوْمَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ مِنْهَاۤ اَرْبَعَةٌ حُرُمٌ. আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই মাসসমূহের গণনা আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর বিধান মতে বারটি। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। -সূরা তাওবা (৯) : ৩৬
এই চার মাসের মধ্যে জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য আল্লাহ তা'আলার কাছে অপরিসীম। কুরআন-হাদীসে এই দশকের বিশেষ ফযীলত ও অসীম গুরুত্ব ও তাৎপর্যের কথা বর্ণিত হয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এই দশকের সম্মান ও পবিত্রতা প্রকাশান্তে এই দশকের রজনীগুলোর নামে শপথ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে। والفجر، وليال عش শপথ ভোরবেলার, শপথ দশ রাত্রির।-সূরা ফজর (৮৯) : ১-২
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা., হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. ও মুজাহিদ রাহ. সহ অধিকাংশ সাহাবী, তাবেয়ী ও মুফাসসিরের মতে এখানে দশ রাত্রির দ্বারা যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ রাতকেই বুঝানো হয়েছে। হাফেয ইবনে কাসীর রাহ. বলেন, এটিই বিশুদ্ধ মত।তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৫৩৫-৫৩৬
হাদীস শরীফে এই দশককে দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম ও মর্যাদাবান দশক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হযরত জাবির রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
أفضل أيام الدنيا العشر، يعني عشر ذي الحجة، قيل ولا مثلهن في سبيل الله؟ قال : ولا مثلهن في سبيل الله، إلا رجل عُفِّر وجهه بالتراب. দুনিয়ার সর্বোত্তম দিনগুলো হল যিলহজ্বের দশ দিন। জিজ্ঞাসা করা হল, আল্লাহর রাস্তায়ও কি তার সমতুল্য নেই? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায়ও তার সমতুল্য নেই, তবে ঐ ব্যক্তি, যার চেহারা ধূলিযুক্ত হয়েছে, অর্থাৎ শাহদাতের মর্যাদা লাভ করেছে।-মুসনাদে বাযযার, হাদীস : ১১২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ২০১০
অন্য বর্ণনায় হযরত জাবির রা. হতে বর্ণিত হয়েছে ما من أيام أفضل عند الله من أيام عشر ذي الحجة যিলহজ্বের দশ দিনের চেয়ে কোনো দিনই আল্লাহর নিকট উত্তম নয়।-সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ২৮৪২
এই দশকের নেক আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়
কুরআন-হাদীসে আশারায়ে যিলহজ্বের উপরোক্ত বৈশিষ্ট্য ও বিশেষ তাৎপর্যের কথা যেমন বর্ণিত হয়েছে তেমনি দশকের আমল ও ইবাদত-বন্দেগীর বিশেষ ফযীলত ও সওয়াবের কথাও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত à¦