আবদুল্লাহ তামিম।।
দীর্ঘ দুই বছর পর সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে আবারও ইফতারের আয়োজন হয়েছে। শনিবার দিনভর রোজা রাখার পর (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দুই মসজিদ প্রাঙ্গণে ইফতার করেন মুসল্লিরা। মুখরোচক সব খাবার দিয়ে হাজার হাজার মুসল্লি ইফতার করেন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিতে।
করোনার বিধিনিষেধের কারণে গত দুই বছর রমজানে সৌদি আরবের কোনো মসজিদেই ইফতার আয়োজন করা হয়নি। দীর্ঘ দুই বছরের অপেক্ষা শেষ হয় শনিবার। এবারের আয়োজনটা ছিল অনেক প্রাণবন্ত। মুসল্লিদের জন্য ইফতার আয়োজনে কোনো কমতি ছিল না।
রোজাদারদের ইফতার করানোর আশায় অনেকে মক্কার হারাম শরিফে উপস্থিত হন ইফতার সামগ্রী নিয়ে। আবেগ ও ভালোবাসায় পানি পান করানোর জন্য পেয়ালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন। এখানে প্রায় ২ লাখ মানুষ ইফতার করেন, যা বিশ্বে রেকর্ড।
আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মক্কার মসজিদুল হারামের ভেতর নির্দিষ্ট স্থানে ইফতারের আয়োজন করা হয়। তাতে বিশ্বের নানা দেশের দুই লাখ মুসল্লি অংশ নেন। এটা বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সম্মিলনের এক অনন্য উদাহরণ।
সৌদির জেনারেল প্রেসিডেন্সির তত্ত্বাবধানে এদিন প্রধান দুই মসজিদে ইফতারের সুফরায় ২০ টন খেজুর বিতরণ করা হয়। মসজিদের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এসব খেজুর আগে থেকে বিচি ছড়ানো ছিল।

এদিন রোজাদারদের মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইফতারি বিতরণ করে। নানা ধরনের খেজুর ও জমজম পানিসহ অন্যান্য শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়। করোনাবিধি মেনে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিতে নির্দিষ্ট ইফতার খাবার বিতরণে দুই হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
মসজিদে নববির ইফতারে সাধারণত যে আইটেমগুলো থাকে।
মসজিদে নববিতে বিছানো হয় বিশাল লম্বা লম্বা দস্তরখানা। তাতে প্রত্যেক মুসল্লির জন্য থাকে আলদা আলদা ইফতার প্যাক। এ প্যাকে কী কী থাকে?

প্যাকে থাকে এক বোতল মিনারেল ওয়াটার। এক বোতল জমজমের পানি। এক বাটি তাজা দই। একটি রুটি। এক মিনি প্যাক মসলা (দুক্কা)
একটি প্লাস্টিকের চামচ। রিফ্রেশিং টিস্যু।
এছাড়াও পর্যাপ্ত মিনারেল ওয়াটার ও জমজমের পানি তো থাকেই। সূত্র: আরব নিউজ
-এটি