আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: দন্ত বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময় অস্থির গঠন সম্পর্কীয় সমস্যার কারণে দাঁতের ভঙ্গুরতাসহ সাদা দাগের সমস্যা দেখা দিতে পারে জন্মগত বা পারিবারিক সূত্রে।
আবার কখনও জন্মের পরবর্তী সময় জীবনপ্রণালির সমস্যার কারণে এ ধরনের দাঁতের ক্ষয় রোগসহ সাদা স্পট দেখা দিতে পারে। অনেক সময় পানিতে ফ্লোরাইডের অভাব থাকলেও দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। নিচে কিছু স্বাস্থ্যবিধি তুলে ধরা হলো, যার মাধ্যমে দাঁতের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
প্রতিদিন নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা
প্রতিদিন যত্ন সহকারে দু'বেলা ব্রাশ করলে দাঁতের স্পট পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। শুধু দু'বেলা দাঁত ব্রাশ করা নয়। এ জন্য ভালো টুথপেস্ট এবং ব্রাশ থাকা দরকার। খাওয়ার পরপরই দাঁত পরিস্কার করা দরকার। যারা দাঁতে ব্রাশ করেন তাদের ব্যবহার করা উচিত বিশেষ ধরনের ব্রাশ। অনেক ক্ষেত্রে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা পরিস্কারের জন্য ডেন্টাল ফ্লস বা সুতা কাজে আসতে পারে।
অ্যাসিডিক খাবার থেকে সাবধান
যেসব খাবারে অতিরিক্ত অ্যাসিড বা অম্লতা রয়েছে- কোমল পানীয়, কৃত্রিম সস, কৃত্রিম ফলের রসের মাঝে রয়েছে এ ধরনের অ্যাসিডিক উপাদান। এই অ্যাসিডিক উপাদানে মাত্রাধিক উপস্থিতি দাঁতের অ্যানামেলকে নষ্ট করে দেয়। ফলে দেখা যায়, দাঁতের সব সাদা স্পট। এ জন্য খাবার গ্রহণে সতর্কতা প্রয়োজন। এমনকি নন-মেডিকেটেড টুথপেস্ট থেকেও দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।
দাঁতের ক্ষয়রোধে কোকোনাট বা নারিকেল তেল
নারিকেল তেল দাঁতের ক্ষয়রোধে চমৎকার ভূমিকা পালন করে থাকে। অনেকেই জানেন না নারিকেল তেল দুই চামক যদি প্রতিদিন দাঁতে ১০ মিনিট ধরে ব্যবহার করা যায়, তবে দাঁতের ক্ষয়রোগ থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব। দাঁত ও মাড়ি দশ মিনিট ধরে ঘষে তারপর কুসুম গরম সহকারে দাঁত ও মুখ কুলকুচি করলে দাঁতে সাদা দাগ পড়ার আশঙ্কা কমে আসে।
দাঁতের ক্ষয়রোধে লেবুর রস
যদিও বলা হচ্ছে, দাঁতের ক্ষয়রোধে অ্যাসিডিক খাবার কম ব্যবহার করতে, তার পরও সাইট্রিক অ্যাসিডের উৎস লেবুকে দাঁত ক্ষয়রোধে কার্যকর পথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাইট্রিক অ্যাসিডের পিএইচ একটু বেশি থাকায় এর উপাদান দাঁতের ক্ষয় সাধন না করে শুধু ব্লিচিংয়ের কাজ করে থাকে। ১ চামচ লেবুর রস এবং এক চিমটি লবণ সহযোগে দাঁত পরিস্কার করলে দাঁত উজ্জ্বল থাকে এবং সাদা দাগ থাকে না।
দাঁতের ক্ষয়রোধে হলুদ
হলুদে শরীরের বর্ণ উজ্জ্বল হয় তা আমরা সবাই জানি। হলুদ কিন্তু দাঁতকেও সৌন্দর্যময় করে তুলতে পারে। নিয়মিত সামান্য হলুদ, লবণ এবং লেবুর রস সহযোগে পেস্ট তৈরি করে তা প্রতিদিন ২ মিনিট দাঁতে প্রয়োগ করলে দাঁতের ক্ষয় ভাব কমে আসে। দাঁত শক্ত ও মজবুত থাকে।
দাঁতের জন্য ভিনেগার
ভিনেগার বা অ্যাসিডিক অ্যাসিড আমরা খাবারে হজমি প্রক্রিয়ার জন্য এবং খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করলেও তা দাঁতের অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকে। ভিনেগার এবং বেকিং সোডা বা খাবার সোডার পেস্ট তৈরি করে সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়ভাব অনেকটা কমে আসে।