এম. মিজানুর রহমান
বান্দরবান।
শিক্ষক-কর্মচারী সংকটসহ নানান সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। ৩১জন শিক্ষকের বিপরীতে ৫ জন,৭ জন কর্মচারীর বিপরীতে আছে ১ জন।
শিক্ষকদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধানসহ ৩ জনই ধর্মীয়, কর্মচারীর মধ্যে আছে ১জন পিয়ন। গত ১যুগ বছর ধরে চলে আসছে বিদ্যালয়ে এ নাজুক অবস্থা। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে এখন ৯০০ থেকে এখন ৫৬৪ জন। এমন পরিস্থিতিতেও শিক্ষক পুরণ না করে শিক্ষক বদলি করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা।
মানসম্মত শিক্ষা দুরের কথা নুন্যতম শিক্ষাও পাচ্ছে না এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। বিজ্ঞান পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরো বেগতিক। সন্তানকে সুশিক্ষত করতে চরম বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ১ জুলাই ১৯৬৭সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১৯৮১ সালে জাতীয়করণ হয় লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। সে থেকে পরিপুর্ণ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছিল বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের সুনাম ও ঐতিহ্যে অন্য উপজেলা থেকে একসময় শিক্ষার্থীরা পড়তে আসতো এখানে।
মূলত ২০১০ সালের পর থেকে শিক্ষক-কর্মচারী সংকটে শিক্ষার পরিবেশে ব্যাপক ধস নামতে শুরু করে। বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য, কারিগরি বিভাগসহ বর্তমানে প্রায় ৬’শ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে বিদ্যালয়ে। শিক্ষার জনবল কাঠামো অনুসারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা-৪, ইংরেজি-৪, গণিত-৩, সামাজিক বিজ্ঞান-৩, ধর্ম-২, ভৌত বিজ্ঞান-২, ব্যাবসা শিক্ষা-১, ভুগোল-১, চারুকলা-১, শারীরিক শিক্ষা-১, কৃষি শিক্ষা-১, কারিগরি শাখায় কম্পিউটার-২, ড্রেস মেকিং-২জনসহ ৩১জন শিক্ষক এবং অফিস ব্যবস্থাপনায় উচ্চমান সহকারি-১ জন, নিম্মমান সহকারি-১ জন, অফিস সহায়ক- ৫জনসহ ৭জন কর্মচারী থাকার কথা। কিন্তু চাহিদাপত্রে দেখা যায় ৭জন কর্মচারীর মধ্যে পিয়ন ১ জন, ৩১জন শিক্ষকের মধ্যে আছে মাত্র ৫ জন শিক্ষক। আবার এই ৫ জনের মধ্যে রয়েছে আবার ১জন ভৌত বিজ্ঞান, ১জন কৃষি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধানসহ ৩জনই ধর্মীয় শিক্ষক।
একযুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে এ করুণ অবস্থা। বর্তমানে ৩১ শিক্ষক পদের মধ্যে ২৬, ৭ অফিস সহায়ক পদের মধ্যে শুণ্য রয়েছে ৬টি। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক বদলি করছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ২০২১ সালের অক্টোবরে বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছিল ৭জন।
সেখান থেকে