আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: বরিশালে গত বুধবার রাতের ঘটনায় আনসারের গুলিতে চোখ হারিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুইজন নেতা। চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া এই দুইজন বর্তমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুলাদীর পৌর মেয়র শফিকুজ্জামান রুবেল।
বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে বিভাগীয় পৌর মেয়রদের এক সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেন, চোখ হারানো দুই নেতা হলেন- বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির এবং মহানগর যুবলীগ নেতা তানভীর। তারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।
ঘটনার দিন রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য এই দুই নেতাকে ঢাকায় আনা হয় জানিয়ে মুলাদী পৌরসভার মেয়র বলেন, তাদের দুজনের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে বলে আজ জানিয়েছেন সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি আমরা।
গত বুধবার রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে সিটি কর্পোরেমনের কর্মীরা ব্যানার সরাতে গেলে বাধা দেন ইউএনও মুনিবুর রহমান। এর জেরে তার বাসভবনে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা গুলি চালায়, পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
ওই ঘটনায় ৩০ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এ ছাড়া দুই পুলিশ, দুই আনসার সদস্য আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। তাদের মধ্যে গুলিতে পায়ের আঙুল হারানো ফারুক হোসেন গাজী নামে এক আনসার সদস্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন ইউএনও এবং পুলিশ। তাতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মীসহ শতাধিক অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ইউএনও’র মামলায় সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে হুকুমের আসামি করা হয়।
দুই মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, ত্রাণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অলিউল্লাহ অলিসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রয়েছেন।
-এটি