আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ‘অতি উচ্চ’ মাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের শিশুরা। দক্ষিণ এশিয়ার আরো তিন দেশ একই কাতারে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
শুক্রবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকিরে মুখে পড়েছে জনগোষ্ঠীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষা। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শিশু ও তরুণরা। এর মধ্যে আফগানিস্তন ছাড়া বাকি তিন দেশে ১৮০ কোটি জনসংখ্যা রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকে বয়সই ২৪ বছরের নিচে।
এই প্রথমবারের মতো শিশুদের জলবায়ু ঝুঁকি সূচক বা সিসিআরআই প্রবর্তন করেছে ইউনিসেফ। ১৬৩টি দেশের এই সূচকে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৩৩টি দেশকে। এসব দেশে বসবাসকারী শিশুর সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি।
‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশগুলো মাত্র ৯ শতাংশ কার্বনডাই অক্সাইডের ভাগীদার। এর বিপরীতে ৭০ শতাংশের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী হচ্ছে মাত্র ১০টি দেশ। ঝুঁকির ক্ষেত্রে পাকিস্তান ১৪, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ ১৫, ভারত ২৬ নম্বরে নেপাল ৫১, শ্রীলঙ্কা ৬১ ও ভুটান ১১১তম অবস্থানে রয়েছে।
এই প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। একটি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটি এসে হাজির হচ্ছে, যা সব অগ্রগতিকে উল্টে দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যেই করোনা মহামারি এই অঞ্চলের শিশুদের জন্য উদ্বেগজনক সঙ্কট তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক জর্জ লারিয়া-আদজেই বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই অঞ্চলে লাখ লাখ শিশু গৃহহীন, ক্ষুধার্ত, স্বাস্থ্যসেবা ও পানি বঞ্চিত হচ্ছে। খরা, বন্যা, বায়ু দূষণ ও নদী ভাঙনের ফলে এই সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে।
-এএ