রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬ ।। ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১২ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
হিফজুল হাদিসসহ অন্যান্য বিভাগে ভর্তি নিচ্ছে আল মারকাজুল ইসলামী বাগমুছা ‘মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই’ গালফভুক্ত চার দেশের প্রতি‌নি‌ধির সঙ্গে পররাষ্ট্রস‌চিবের বৈঠক ইরানে হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ ‘খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা’ এবার রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ বাংলা একাডেমি পদক নেবেন মোহন রায়হান, তবে… মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মাঝে প্রবাসীদের খোঁজখবর নিলেন তারেক রহমান খামেনি হত্যায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ পীর সাহেব চরমোনাইয়ের ইরানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত

পূর্ণ ডোজ টিকা ছাড়া ১১ দেশ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ নিষেধ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: পূর্ণ ডোজ করোনা টিকা ছাড়া ইরান, স্পেন, মালয়েশিয়া, লিবিয়াসহ ১১টি দেশ থেকে আগত যাত্রীদের বাংলাদেশে প্রবেশে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

সোমবার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স) গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী মুহা. জিয়াউল কবীর জিডি(পি) স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ খবর জানানো হয়েছে।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে ভারত ও নেপালকে। পূর্ণ ডোজ টিকা ছাড়া ২০টি দেশ থেকে যাত্রী আসতে পারলেও তাদের থাকতে হবে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে।

গ্রুপ-এ তালিকাভুক্ত ১১টি দেশ থেকে কোন বাংলাদেশি দেশে আসতে চাইলে তাকে অবশ্যই ১৪ দিন আগে কোভিড-১৯ এর সম্পূর্ণ ডোজ ভ্যাকসিন সম্পন্ন করতে হবে। ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ ডোজ (সম্পূর্ণ ডোজের জন্য প্রযোজ্য একক বা দ্বিগুণ ডোজ) ছাড়া এই ওইসব দেশ থেকে কোনো যাত্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে না। পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করা আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রে দেশে থেকে আসার পর তাদের থাকতে হবে ১৪ দিনে কঠোর হোম কোয়ারেন্টাইনে। যদি এসব দেশ থেকে আগত যাত্রীদের মধ্যে আগমনের সময় কোভিড-১৯ এর কোন প্রকার উপসর্গ শনাক্ত বা দেখা যায় তাহলে তাকে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরকারি অনুমোদিত হাসপাতালে পাঠানো হবে অথবা লক্ষণগুলির প্রকৃতি ও তীব্রতার উপর নির্ভর করে, সরকারি মনোনীত হোটেলে যাত্রীর নিজস্ব খরচে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে পাঠানো হবে। গ্রুপ-এ তালিকায় থাকা দেশগুলো হচ্ছে আর্জেন্টিনা, বতসোয়ানা, কিউবা, সাইপ্রাস, ইসওয়াতিনি, জর্জিয়া, ইরান, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া ও স্পেন।

বেবিচকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গ্রুপ-বি তালিকায় থাকা ১৬টি দেশ থেকে টিকা ছাড়া যে কোন যাত্রী বাংলাদেশে আসতে চাইলে তাকে থাকতে হবে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে গ্রুপ-বি তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে আগত যাত্রী যাদের পূর্ণ ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন সম্পন্ন করা হয়নি তাদের দেশে আসার পর নিজস্ব খরচে সরকারি মনোনীত হোটেলে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে যাত্রীর চেক-ইন চলাকালীন হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণ দেখাতে হবে এবং বোর্ডিং পাস দেওয়ার আগে এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের তা যাচাই করতে হবে।

তবে গ্রুপ-বি তালিকাভুক্ত দেশ থেকে আসা যাত্রীরা গ্রুপ-এ’র দেশগুলোর মাধ্যমে ট্রানজিট করতে পারে, তবে এয়ারলাইন্সের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ট্রানজিটের সময় বিমানবন্দরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

গ্রুপ-বি এর তালিকাভুক্ত দেশগুলো হল: ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ফ্রান্স, ইরাক, আয়ারল্যান্ড, কাজাখিস্তান, কুয়েত, কিরগিজস্তান, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস, পানামা, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া ও যুক্তরাজ্য।

বেবিচকের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পূর্ণডোজ টিকা গ্রহণ করেননি গ্রুপ-এ দেশগুলোতে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসী এবং কোন বাংলাদেশি প্রবাসী নাগরিক যদি দেশে সারা আগের ১৫ দিনের মধ্যে গ্রুপ-এ’র দেশগুলোতে ভ্রমন করেন তাহলে কেবল মাত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে তারা দেশে আসতে পারবেন।

গ্রুপ-সি এর তালিকাভুক্ত দেশগুলো (গ্রুপ এ ও বি ব্যতীত বাকি দেশগুলো) থেকে যে কোনও যাত্রী বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে পারবেন, এক্ষেত্রে দেশের আসার পর তাদের থাকতে হবে ১৪ দিনের কঠোর হোম কোয়ারেন্টাইনে। তবে দেশে আসার সময় কোন যাত্রীর শরীরে কোভিড-১৯ এর লক্ষণ শনাক্ত হয়, তাহলে তাকে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরকার অনুমোদিত হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং লক্ষণগুলির প্রকৃতি ও তীব্রতার উপর নির্ভর করে যাত্রীর নিজস্ব খরচে সরকার মনোনীত হোটেল বা আইসোলেশন সেন্টারে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে।

সি-গ্রুপের দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীরা গ্রুপ এ ও বি তালিকাভুক্ত দেশগুলোতে ট্রানজিট করতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে ট্রানজিটের সময় যাত্রীকে বিমানবন্দরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের তত্ত্বাবধানে করতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে কোন যাত্রীর বিশ্বে কোন বিদেশে ভ্রমনের উপর কোন প্রকার বিধিনিষেধ নেই বলেই জানিয়েছে বেবিচক। এক্ষেত্রে বিদেশগামীরা ট্রানজিট ও যে দেশ যাবেন সে দেশ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সর্বশেষ বিধিনিষেধ অনুসরণ করবেন।

পিসিআর পরীক্ষা এবং টিকা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা: বেবিচকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে ১০ বছরের কম বয়সী শিশু বাদে সকল আগত ও বহির্গামী যাত্রীদের অবশ্যই আরটি পিসিআর ল্যাবের কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকতে হবে। পিসিআর পরীক্ষা ফ্লাইট ছাড়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করতে হবে।

১৮ বছরের কম বয়সী যাত্রীরা সম্পূর্ণ ডোজের টিকা ছাড়াই শুধুমাত্র তাদের পরিবারের সাথে ভ্রমণ করতে পারবেন। কূটনীতিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী হবে। দেশে আগত যাত্রীদের হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ