মাওলানা মুহাম্মাদ আবু সালেহ।।
সুন্দর বাক্যবিনিময় ভদ্রতার পরিচায়ক। মানব চরিত্রের মাধুর্য, সৌন্দর্য্য এবং উৎকর্ষতার পাশাপাশি নিম্নতা ও নিচতা পরিমাপেরও অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে তার ভাষা। ভাষা তিক্ত ও কঠোর হলে তার আঘাত হয় অতি ভয়ানক, তার ক্ষত অনেক গভীর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। পক্ষান্তরে বিনম্র এবং সুন্দর আচরণ মন গলিয়ে দিতে পারে কঠিন হৃদয়ের মানুষের অন্তরও। সকল নবী-রাসূল ভাষার মাধ্যমে তাঁদের উপরে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমান অবাধ প্রচার মাধ্যমের কল্যাণে পাশ্চাত্যের তথাকথিত সভ্য দাবিদারদের নৈতিক স্খলন ও চারিত্রিক রোগ-ব্যধি আমাদের মধ্যেও অনুপ্রবেশ করছে। আমরা নিজেদের অলক্ষ্যেই ক্রমশ ধাতস্থ হয়ে উঠছি তাদের বাচন, কথকতা এবং প্রকাশভঙ্গিতেও। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের ভাব, ভাষা এবং আচার আচরণ ও প্রকাশভঙ্গিতে তাদের অন্ধানুকরণ অনেকাংশেই আজ বিকশিত ও প্রতিভাত।
চরিত্র তখনই সুদৃঢ় হয় যখন এর ভিত্তি স্থাপিত হয় গভীর জ্ঞান এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে। আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জ্ঞানের প্রকাশ ঘটানোর ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী একটি মাধ্যম ভাষা। এ কারণে কথোপকথন হতে হবে সুন্দর, শ্রুতিমধুর এবং মার্জিত। সুন্দর ভাষা ও কথোপকথনের কিছু কলাকৌশল উল্লেখ করা হলো।
অর্থহীন বাক্যবিনিময় বর্জনীয়: কথোপকথনের আকর্ষণ নির্ভর করে বক্তব্যের উদ্দেশ্যের উপরে। সুতরাং, বক্তব্যের উদ্দেশ্য যত মহৎ হবে বক্তব্য ও কথোপকথন তত সুন্দর, শ্রুতিমধুর, মনোমুগ্ধকর এবং আকর্ষণীয় হবে। তাই অর্থহীন বাক্যবিনিময় থেকে বিরত থাকা একান্ত কর্তব্য। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে- 'ক্কওলুল খইরি আওয়িস সমতি', অর্থ- 'হয় উত্তম কথা অন্যথায় নিরবতা'। অর্থাৎ, আপনার মুখ নিঃসৃত প্রতিটি কথা হবে অর্থপূর্ণ এবং উত্তম। এমন উত্তম কিছু বলার না থাকলে আপনার নিরব থাকাই উত্তম।
মিথ্যা সকল পাপের মূল: সর্বদা সত্য কথা বলা নিজের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে নিতে হবে। কেননা, মিথ্যা সকল পাপের মূল। রাসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- সবচেয়ে বড় খেয়ানত হলো, তুমি তোমার মুসলমান ভাইকে এমন একটি কথা বললে যা সে সত্য বলে মনে করল অথচ তা মিথ্যা। -আবু দাউদ
কথা কাজে মিল থাকা চাই: কথাবার্তায় ওইসব বিষয় শামিল থাকা চাই যে বিষয়ে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আছে। নিজের বক্তব্যের সাথে কাজের মিল রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। বক্তব্য ও কাজের বৈপরীত্য থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় এতে সমাজে বে-আমলীর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। কথা ও কাজের বৈপরীত্যের নিন্দা করে কুরআনুল