আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: দেশে কোনো প্রকার ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়াতে যে কোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন অথবা এধরনের কাজে সহায়তা করা থেকে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিরত থাকতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (সহকারী মুখপাত্র) জী. এম আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত জনস্বার্থে জারি করা এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
উল্লেখ্য, ভার্চুয়াল মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ এবং লেনদেন করা অপরাধ কিংবা অবৈধ নয় সম্প্রতি এই মর্মে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশে ভার্চুয়াল মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সির বৈধ না অবৈধ সে বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা/ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। একটি নির্দিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার গোপনীয় ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পত্রের মাধ্যমে প্রেরিত মতামতের অংশ বিশেষ কয়েকটি পত্রিকায় খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যা কোনোক্রমেই সাধারণভাবে প্রচারযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, সকলের সচেতনতার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যমে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে।
প্রচারিত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, অনলাইন ভিত্তিক ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি যথা বিটকয়েন, ইথারিয়াম, রিপল ইত্যাদি বিবিধ বিনিময় প্লাটফর্মে লেনদেন হচ্ছে। এসব ভার্চুয়াল মুদ্রা কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ ইস্যুকৃত বৈধ মুদ্রা নয় বিধায় এর বিপরীতে কোনো আর্থিক দাবির স্বীকৃতিও থাকে না।
এসব মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত নয় বিধায় এসব ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭: সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর দ্বারা সমর্থিত হয় না। অনলাইনে নামবিহীন/ছদ্মনামিক প্রতিসঙ্গীর সঙ্গে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।
-এটি