আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিয়ারের পাইল ক্যাপে ধাক্কা দেয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনা কবলিত ফেরি শাহজালালের চালকসহ চারজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। রোববার (২৫ জুলাই) রাত ১২টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
দুর্ঘটনার দিন শুক্রবার ভোর রাতে ফেরিটির ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার আব্দুর রহমানকে শিমুলিয়া ৩ নম্বর ঘাটের সাথে নোঙ্গর করা ফেরিটি থেকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি এবং ডোপ টেস্টও করে। পরবর্তীতে শনিবার (২৪ জুলাই) মাস্টারের সাথে থাকা সুখানী সাইফুল ইসলাম, নিচে মেশিন রুমে থাকা ইনল্যান্ড জুনিয়র ইঞ্জিন অফিসার রেজাউল করিম ও তার সহকারী গ্রিজার মুহা. আজাদকে পুলিশ শিবচর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার রাত ১২টার দিকে চারজনই শিবচর থানা ত্যাগ করেন।
বিআইডব্লিউটিসি প্রথম পর্যায়ে ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার আব্দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও পরবর্তীতে তার সাথে সুখানীর কাজ করা সাইফুল ইসলামকেও সাময়িক বরখাস্ত করে। মাস্টার ও সুখানীর অসর্তকতার জন্যই দুর্ঘটনাটি ঘটে মর্মে প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও সহ-মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আহম্মদ আলী জানান, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুইজন নারায়ণগঞ্জ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টায় মুন্সিগঞ্জে রো রো ফেরি শাহজালাল পদ্মা সেতুর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ফেরিটি বাংলাবাজার ঘাট থেকে রওনা দিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে যাচ্ছিল।
বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া আসার পথে রো রো ফেরি শাহজালাল পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ফেরির সামনের অংশে বড় ধরনের ছিদ্র হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় ফেরিতে থাকা ৩৩টি যানের একটির সঙ্গে আরেকটির ধাক্কা লাগে। ফেরির প্রায় দুই হাজার যাত্রীর মধ্যে অনেকেই পড়ে সামান্য আঘাত পেয়েছেন। এদের মধ্যে ২০ জন জখম হয়েছেন।
-এএ