সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬ ।। ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১৩ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: শেহবাজ শরিফ ইরানের নতুন নেতারা কথা বলতে চায় বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান হামলা সামনের দিনগুলোতে আরও তীব্র হবে: নেতানিয়াহু ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় কঠোর হমলা চলবে: ইরানের প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সৌদি আরব বাড়ল ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম যুদ্ধ বন্ধে অবিলম্বে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জমিয়তের প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন খামেনি হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিলো হিজবুল্লাহ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর নামে প্রতারণা, সাবধান করল ইফা

কাজী সাহেবের স্নেহ পাওয়ার স্মৃতি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবুদ্দারদা আব্দুল্লাহ।।

কাজী সাহেব হুজুরকে প্রথম দেখার স্মৃতি এখনো তাজা হয়ে আছে হৃদয়পটে। ২০০৫ সালে যখন মালিবাগে আসি তখনই হুজুরের সাথে সাক্ষাৎ হয় আব্বার মাধ্যমে। সেদিনের সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ক্ষণিকের জন্য হলেও কাজী সাহেব হুজুরের সান্নিধ্য পাওয়ার স্মৃতি, তাঁর স্নেহ পাওয়ার স্মৃতি। মানুষের এক জীবনের সব প্রাপ্তি মূল্যবান নয়, কিছু কিছু প্রাপ্তি থাকে যা রোমন্থনের, গৌরবের ও আনন্দের। কাজী সাহেব হুজুরের স্নেহের অনন্য আলোকসম্পাতে আমার কিশোরবেলা গৌরবান্বিত হয়েছে ।

মালিবাগে পড়ার সুবাদে এরপরে প্রায় প্রত্যেকদিনই দেখা হতো। তবে প্রথম দেখার সেই স্মৃতিটা এখনো ভুলতে পারি না। হুজুরের অন্তর্ধান হওয়ার পর বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু এখনো হুজুরের হাঁটাচলা, পোশাক পরিচ্ছেদ, ভরাট গম্ভীর আওয়াজের বয়ান সবকিছু আমার হুবহু মনে আছে। জামিআ ইকরা বাংলাদেশে দীর্ঘ দশ বছর পড়ালেখা করার সুবাদে কাজী সাহেব হুজুর সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা শুনেছি। কাজী সাহেব হুজুরে খাস শাগরিদ, আমার বুখারী শরীফের উস্তাদ, পীর ও মুরশিদ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ দামাত বারাকাতুহুম কাজী সাহেব হুজুরকে নিয়ে যখনই আলোচনা করতেন শ্রদ্ধা ভালোবাসায় হুজুরের চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত হয়ে যেতো বারবার। জামিআ ইকরার ইতিহাস বলতে গিয়ে ফরীদ সাহেব হুজুর বলতেন, ইকরা হচ্ছে কাজী সাহেব হুজুরের স্বপ্নের মাদ্রাসা।

ইকরায় পড়াকালীন বিভিন্ন সময় বিশেষ করে ইকরা সাহিত্য মজলিশে কাজী সাহেব হুজুরকে নিয়ে স্বরচিত লেখা পাঠ করতাম। মজলিসের প্রধান ছিলেন কাজী সাহেব হুজুরের আরেক খাস শাগরেদ, দেওবন্দের কৃতি সন্তান, জামিআ ইকরার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান। কাজী সাহেব হুজুরকে নিয়ে কিছু লিখলে হুজুরের মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠতো। খুব খুশি হতেন এবং উৎসাহ দিতেন।

জামিআ ইকরায় পড়াকালীন বছর শেষে বার্ষিক পুরষ্কার বিতরণীর দিন দেয়ালিকার 'সেরা লেখক' পুরষ্কার বেশিরভাগ সময় আমার ভাগ্যে জুটতো। মিশকাতের বছর প্রিয় শিক্ষক মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান সাহেব আমাকে বললেন, এ বছর তুমি একটা দামী পুরষ্কার পেতে যাচ্ছো যা তোমার জীবনটাকে আলোকিত করে দিবে। পুরষ্কার পাওয়ার পরে প্যাকেট খুলে দেখলাম কাজী সাহেব হুজুরের লেখা বহুল আলোচিত গ্রন্থ 'বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সুর' বইটা পেয়েছি। কী যে ভালো লাগলো তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। জীবনে আমি অনেক পুরষ্কার পেয়েছি কিন্তু সেদিনের মতো খুশি আমি আর কখনো হইনি বোধহয়। পুরষ্কার নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন ফয়জুল্লাহ আমান সাহেব। হুজুর জানতেন কাজী সাহেব হুজুরকে নিয়ে আমার অনিঃশেষ আগ্রহ যার কারণে হুজুর খায়েরখাহ হয়ে আমার জন্য ঐ বইটা পুরষ্কার হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। ফয়জুল্লাহ আমান সাহেবের কথাই সত্য, বইটা পাওয়ায় আমার বেশ উপকার হয়েছে। বেশ কয়েকবার পড়েছি এবং প্রত্যেকবারই অন্যরকম একটা ভালোলাগার স্বাদ অনূভুত হয়েছে। কাজী সাহেব হুজুরকে পড়তে পড়তে মাদানী চিন্তাধারার একনিষ্ঠ সমর্থক হয়ে গিয়েছি মনের অজান্তে ৷ উস্তাদকে কিভাবে স্মরণ করতে হয় কিম্বা হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসতে হয় সেই সবক কাজী সাহেব হুজুর হৃদয়গ্রাহী সহজ সাবলীল ভাষায় প্রকাশ করেছেন, আমাদের কাছে জীবন্ত করে তুলেছেন প্রিয় উস্তাদ শায়খুল ইসলাম হযরত মাদানী রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে।

এই বইটা পড়লে বোঝা যায় , বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে হুজুরের বেশ দখল ছিলো। একটা সময় কওমি মাদ্রাসায় মাতৃভাষা বাংলা চর্চা করা ছিলো মহা অন্যায়। যারা বাংলাভাষা চর্চা করতো তাদেরকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হতো অথচ আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। ধর্মের নামে সুকৌশলে একটা চক্রান্ত চলছিলো তখন। কাজী সাহেব এবং ফরীদ সাহেব হুজুর উস্তাদ ছাত্র মিলে লাজনাতুত তলাবা তৈরির মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসাকে এই চক্রান্ত থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসলেন। বাংলায় জন্মে যাঁরা বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন, তাঁদের প্রতি মধ্যযুগীয় কবি আবদুল হাকিমের বিষোদ্‌গার ঝরেছিল ‘বঙ্গবাণী’ কবিতায়। তিনি লিখেছেন,
‘যেসব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’

কবি আবদুল হাকিমের বিষোদগার থেকে পুরো কওমি মাদ্রাসাকে মুক্তি দেওয়ায় দুই মহান ছাত্র-শাগরিদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। নীতি বিসর্জন না দিয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম এত জটিল ও কষ্টসাধ্য, এত শ্রান্তিকর হবার কথা যে ধরেই নেয়া যায়, নিজের সমাজের লোকদের সাথে প্রতিকূল যুদ্ধ না করতে হলে আরও অজস্র কাজ আমরা কাজী সাহেব হুজুরের মতো মানুষ গড়ার কারিগরের হাতে উন্মোচিত দেখতে পেতাম।

দুই.

আমার আব্বার সাথে কাজী সাহেব হুজুরের বেশ সখ্যতা ছিলো। মালিবাগ মাদ্রাসার ছাত্রদের হোটেলে খাওয়াকে কেন্দ্র করে মুজাহিদে আজম হযরত শামসুল হক ফরীদপুরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি যেদিন আব্বাকে স্বপ্ন দেখালেন এবং সেই স্বপ্নের আদ্যোপান্ত কাজী সাহেব হুজুরকে বললেন তখন মালিবাগ মাদ্রাসার সমস্ত ছাত্র উস্তাদদেরকে হুজুর দুই তলায় ডেকে আব্বার দেখা স্বপ্নের কথা বলে খুব পরিতাপ করলেন এবং ছাত্রদের হোটেলে খাওয়া নিষেধ করলেন ও দস্তরখানে খাওয়া বাধ্যতামূলক করে দিলেন।

কাজী সাহেব হুজুর সেদিন উস্তাদদের মিটিংয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, মালিবাগে এতো বড় বড় আলেম থাকা সত্বেও মুজাহিদে আজম রহমাতুল্লাহি আলাইহি স্বপ্ন দেখালেন আমাদের খাদেম সাহেবকে! এই ঘটনার পর থেকে কাজী সাহেব হুজুরসহ মালিবাগ মাদ্রাসার সমস্ত উস্তাদদের কাছে আব্বা ভালোবাসার পাত্র হয়ে উঠলেন। সবাই খুব ভালোবাসতেন। মালিবাগ মাদ্রাসায় পড়ার সুবাদে সেই ভালোবাসার ভাগ আমিও কিছু পেয়েছিলাম।

আব্বার সাধারণ একটা অভ্যাস হলো, কোন আলেমের সাথে দেখা হলে নিজের জন্য এবং ছেলেদের জন্য দোয়া চাওয়া। কাজী সাহেব হুজুরের সাথে আব্বার দেখা হলেই আদব ইহতেরামের সাথে দোয়া চাইতেন যেন তার সব কয়টা ছেলেকে হাফেজ আলেম বানাতে পারেন। কাকুতি মিনতি করে হজের সফরের জন্যও দোয়া চাইতেন। মেকি ভাব কিম্বা সামনে পড়ে যাওয়ায় দোয়া চাওয়া এরকম নয়, একেবারে অন্তর থেকে আন্তরিকতার সাথে বিনয়াবনত হয়ে দোয়া চাইতেন। আল্লাহ পাক হুজুরের দোয়ার বদৌলতে হুজুরের জীবদ্দশায় ২০০৯ সালে আব্বাকে হজ্ব করিয়েছেন এবং আমাদের ছয় ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই ব্যতিত চার ভাইকে আল্লাহ পাক হাফেজ হিসেবে কবুল করেছেন এবং হুজুরের ইন্তেকালের পর অবশিষ্ট দুই ভাই হাফেজ হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

আব্বার বদৌলতে বেশ কয়েকবার কাজী সাহেব হুজুরের সান্নিধ্যে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার মতো নালায়েকের। প্রথম সৌভাগ্যের দেখা মিলেছিলো একদিন রাত্রে বেলা। তখন আমার বয়স নয় কিম্বা দশ বছর। মালিবাগ মাদ্রাসার নীচের মক্তবে পড়ি। মালিবাগ মাদ্রাসার মক্তব দুইটা৷ মসজিদে ছিলো অনাবাসিক আর মাদ্রাসার ছয় নাম্বার তলায় আবাসিক। আব্বা আবাসিক মক্তবে চাকরি করতেন। সেখানের সমস্ত স্টাফরা মিলে একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন, কাজী সাহেব হুজুরকে মাঝেমধ্যে বরকতের জন্য আবাসিক মক্তবের স্পেশাল তরকারি টেস্ট করাবেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ শুরু হলো এবং হুজুরের বাসায় তরকারি নিয়ে যাওয়ার ভার পড়লো আব্বার উপর। আব্বা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন, এই বরকতি কাজে আমাকে শরীক করবেন যাতে করে আমি হুজুরের দোয়া নিতে পারি। তৎকালীন আবাসিক মক্তবের প্রধান মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেবকে আব্বা বিনয়ের সাথে বললেন, হুজুর যদি অনুমতি দেন তাহলে কাজী সাহেব হুজুরের বাসায় তরকারি আবু দারদাকে দিয়ে পাঠাতে চাই ৷

মাহমুদুল হাসান সাহেব আমাদের গোপালগঞ্জের। ভীষণ কড়া মেজাজের লোক তবে আমাকে খুব স্নেহ করতেন। আমার দিকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন এবং এক পর্যায়ে হয়তো বুঝলেন এর দ্বারা কাজী সাহেব হুজুরের আদব রক্ষা হবে যার কারণে সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে বললেন, ঠিক আছে আবু দারদা যাক তাহলে। আমাকে জিগ্যেস করলেন,পারবি তো? আমি বেশ বলিষ্ঠ গলায় বললাম, জ্বী হুজুর পারবো।
আমার চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক৷

হুজুরের বাসায় আগেও বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম হুজুরের নাতি, আমার মক্তবের সহপাঠী মাকতুমের সাথে তবে কখনো বাসায় ঢোকা হয়নি। মাদ্রাসার কোয়ার্টারের দুই তলায় হুজুরের বাসা। বাসায় ঢুকতেই প্রথম রুমটা হুজুরের বিশ্রাম, মুতালা'আ এবং অফিস রুম। বাসায় ছাত্র উস্তাদ কেউ গেলে ঐ রুমে হুজুর সাক্ষাৎ দিতেন। তরকারির পেয়ালা হাতে যখন হুজুরের রুমে ঢুকলাম তখন হুজুর সম্ভবত মুতালাআ করছিলেন৷ তরকারির পেয়ালা হাতে আমার মতো একজন নিরিহ টাইপ, সোজা টানটান বালককে দেখে হুজুর একটু বিস্মিত হলেন। তারপর কিতাব বন্ধ করে হাসিমুখে বললেন, ও তুমি এসেছো আমাকে তরকারি চেক করাতে? আবাসিক মক্তবের টেলিফোন থেকে হুজুরের বাসায় ফোন করে আগেভাগে জানিয়ে দেয়া হয়েছিলো যার কারণে হুজুর বুঝতে পারলেন। আমার হাত থেকে পেয়ালা নিয়ে তরকারি খেলেন এবং আমার নাম জিগ্যেস করলেন। আব্বার নাম বলার পরে যখন বললাম আমার নাম আবুদ্দারদা, তখন হুজুর খুব খুশি হলেন।

কিছু না বলে প্রশংসার চোখে আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। সেদিন তাঁর দৃষ্টির মধ্যে সত্যিকার অর্থেই উৎসাহ পেয়েছিলাম। তাঁর সেই সৌম্যকান্তি চেহারার মধ্যে যে এক ধরনের প্রশংসা এবং স্নেহমিশ্রিত প্রশ্রয় লুকিয়ে ছিল, সেটি আমার স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল। এরপর থেকে এই নামটার উছিলায় হুজুর আমাকে এমনভাবে মনে রাখলেন যা কল্পনাতীত। কোথাও দেখা হলেই নাম ধরে ডাকতেন। আহ, কী মধুর ছিলো সেই দিনগুলো।

আরেকটা মজার ঘটনা মনে পড়ে গেলো। একদিন সকালবেলা মক্তবে গিয়েছি। হুজুরের নাতি মাকতুম আমার পাশে বসেছে। পড়ার মাঝখানে হঠাৎ ফিসফিস করে বললো,আজকে ছুটির পরে তোকে হোটেলে নিয়ে পরোটা খাওয়াবো। মক্তব ছুটির পরে মাকতুম কথা অনুযায়ী আমাকে পরোটা খাওয়ালো। আমি ছোট মানুষ যার কারণে পরোটা খাওয়ানোর টাকার উৎসটা কী সে সম্মন্ধে মাকতুমকে কিছু জিগ্যেস করা হলো না। পরোটা খাওয়ানো শেষে মাকতুমকে একটু চিন্তিত মনে হলো। আমার কানের কাছে ফিসফিস করে কিছু একটা বলতে যেয়েও বললো না। হয়তো আমাকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না মনের অব্যক্ত কথাটা বলার জন্য। পরেরদিন শুনলাম, মাকতুম কাজী সাহেব হুজুরের পকেট থেকে টাকা চুরি করেছে এবং আমার মতো মক্তবের আরো অনেককে খাওয়ায়েছে। উদ্দেশ্য, সবার সাথে খাতির পাতানো। হুজুর অবশ্য তাঁর নাতিদেরকে খুব স্নেহ করতেন এবং শিশুর মতো মিশতেন। মাকতুমকে শাস্তি হিসেবে অফিস রুমে আটকে রেখে দিলেন। সেই শাস্তি অবশ্য দীর্ঘ হয়নি। অল্প কিছুক্ষণ পরে নিজেই আবার নাতিকে হাসতে হাসতে অফিস থেকে বের করে নিয়ে আসলেন।

মক্তব অধ্যায় শেষ করে মালিবাগ শাহী মসজিদের হিফযখানায় ভর্তি হওয়ার সময় আব্বা হুজুরের কাছে দোয়া নিলেন। কিন্তু মালিবাগের চেনা আনন্দমুখর পরিবেশে থাকতে থাকতে মনটা জমিনে পাহাড়ের মতো খুটি হয়ে গেড়ে বসেছিলো৷ ইচ্ছা ছিলো মালিবাগ মাদ্রাসার হিফযখানায় পড়বো কিন্তু আব্বার মানসা ছিলো, ছেলেদেরকে নিজের কাছ থেকে দূরে রাখবেন যাতে করে একাকী থাকায় অভ্যস্ত হয়ে যাই। আব্বা ভালো করেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, ইলম অর্জন করতে হলে একাকীত্বের কষ্ট স্বীকার করতে হয় সুতরাং আব্বা এক্ষেত্রে ছিলেন অনড়, অটল। আমার কোন অজুহাতে কাজ হলো না। তাছাড়া আব্বা প্রত্যেকটা কাজ হুজুরদের পরামর্শ করে করতেন, কখনো এর ব্যতিক্রম হয়নি।

অনেকদিন পর কাজী সাহেব হুজুরের স্মরণে নিয়ে লিখতে বসে কত মধুর স্মৃতি-ই না ভর করছে হৃদয়ে। ডান হাতের কব্জিতে ইনজুরি তারপরেও প্রিয়তমকে স্মরণ করে সামান্য কিছু লিখলাম। আরো লিখতে মনে চাচ্ছে তবে লেখার কলেবর বৃদ্ধি করতে চাচ্ছি না। কিছু কথা থাকুক আমার কাছে, আমার হৃদয়ে। তিরোধানের পর বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। তবে কেন জানি আমার মন বলে, কাজী সাহেব হুজুর এখনো বেঁচে আছেন। মালিবাগ মসজিদের মিম্বরে হুজুরের ভরা গম্ভীর কণ্ঠের আওয়াজ এখনো কানে গমগম করে বাজে। আল্লাহ পাক হুজুরের কবরকে নূর দ্বারা ভরপুর করে দিন।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ