কঁচি বয়সে আমার হৃদয়ে যে কজন বুযুর্গের নাম শুনে অন্য রকম এক ভাললাগা কাজ করত তিনি হযরত কাজী সাহেব হুজুর রহ.। আমি তখনো তাঁর সাক্ষাত পাইনি। কিন্তু আমাদের ঘরে কাজী সাহেব হুজুরের আলোচনা হত। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে কাজী সাহেব হুজুরের নাম উঠে আসত। আসআদ মাদানী রহ. এর বাংলাদেশ সফরের বিভিন্ন কারগুজারীতে, দেওবন্দি মাসলাক প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন জায়গায় তাঁর কর্মোদ্দিপনা ও জ্ঞানগর্ভ লা-জবাব কর্মকাণ্ড, আপন উস্তাদ ও শায়খ মাদানী রহ. এর চিন্তা চেতনায় উদ্দিপ্ত হয়ে দীনদার মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, ইলমের খেদমতে অনিঃশেষ অবদান রাখা ইত্যকার আলোচনায় কাজী সাহেব হুজুরের নাম খুবই ভক্তির সাথে উচ্চারিত হত।
এতে আমাদের হৃদয়ে এক আদর্শবান আলেম হিসাবে অঙ্কিত হয়ে যায় কাজী সাহেব হুজুরের নাম। এরপর যখন আরো কিছু বুঝতে শিখেছি তখন আলেমদের কাছে প্রেরীত একটি খোলা চিঠির নীচে পাশাপাশি আব্বাজির নামের পাশে কাজী সাহেব হুজুরের নাম দেখেই তাদের কর্মকাণ্ডের সাথে সর্বপ্রথম পরিচিতি হই। বলা বাহুল্য, সে চিঠিটি ছিল চারদলীয় জোট (কার্যত তিন দলীয়) সরকারের শরীক মওদূদীবাদী জামাতে ইসলামের ইসলামী বিরোধী কার্যকলাপে সত্যবাদী আলেম উলামার অপরিবর্তনীয় সিদ্বান্তের ইয়াদ-দেহানী।
কাজী সাহেব হুজুর রহ. আমার আব্বাজি আল্লামা মুফতী নূরুল্লাহ সাহেব রহ. এর দেওবন্দের সাথী এক মাদানী সহযোদ্ধা। শুধু তাই নয় বরং যদি প্রশ্ন করা হয় কাজী সাহেব হুজুর র. এর সবচেয়ে ঘনিষ্ট সাথী সতীর্থের নাম বলুন। তবে প্রথম দু-একজনের মাঝেই মুফতিয়ে আযম আল্লামা মুফতী নূরুল্লাহ রহ. এর নাম নিতে হয়। দেশে একজনের বাড়ী যশোর আরেকজনের নরসিংদী হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবে তাঁদের পরিচিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। দেওবন্দেই তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকেই একই সাথে পথ চলা, ঘনিষ্ঠতা। আপন উস্তাদ শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা সায়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. থেকে প্রাপ্ত ইসলাম ও মুসলমানদের খেদমতে যুথবদ্ধ যাত্রা।
তাঁদের ভিতরে ছিল দীনি মহববত ও ভালবাসা। দেওবন্দ থেকে দেশে ফিরেও সেই ভালবাসায় কখনো চির ধরেনি। দুজনের পথে কখনো ভিন্নতা তৈরি হয়নি। একজন সাথীকে কিভাবে সম্মান দিয়ে ভালবাসতে হয়, একই চিন্তা চেতনার লালন ও প্রসারে কিভাবে সম্মিলিত আত্ননিয়োগ করে সর্বস্ব উজার করে দিতে হয় এর উদাহরণ ছিলেন তাঁরা। পরিস্থিতি প্রতিকুলতা সত্য প্রকাশ ও চর্চায় তাদেরকে নিবৃত্ত করতে পারত না। বরং প্রবল বেগে ধেয়ে আসা ঢেউয়ের সামনে সুদৃঢ় পাহারের মতই অটল অথচ বিনম্র হয়ে বহু মানুষের আশ্রয়ে পরিনত হতেন তাঁরা। আসলে এর পিছনে বড় কারিগর হলেন শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলাà