সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬ ।। ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১৩ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
৬ মার্চের মধ্যে প্রবাসী হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-টিকার তথ্য দিতে হবে খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: শেহবাজ শরিফ ইরানের নতুন নেতারা কথা বলতে চায় বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান হামলা সামনের দিনগুলোতে আরও তীব্র হবে: নেতানিয়াহু ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় কঠোর হমলা চলবে: ইরানের প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সৌদি আরব বাড়ল ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম যুদ্ধ বন্ধে অবিলম্বে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জমিয়তের প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন খামেনি হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিলো হিজবুল্লাহ

ক্ষণজন্মা মনীষী ছিলেন আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ.

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা মুহাম্মদ আবূ মূসা কাসেমী
শায়খুল হাদিস ও লেখক

ক্ষণজন্মা মনীষীগণের মধ্যে শায়খুল হাদীস আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ. ছিলেন অন্যতম । তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। আছেন পরজগতে জান্নাতের শামিয়ানাতলে। তিনি ছিলেন একজন চৌকষ ও গুণী আলেম। তিনি স্বতন্ত্র মহিমায় অনন্য ছিলেন। মানুষের সার্বিক কল্যাণ-চিন্তায় সবসময়, ব্যতিব্যস্ত থাকতেন। আল্লামা কাজী মু'তাসিম বিল্লাহ রহ. শুধু একজন ব্যক্তি নন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠান, একটি বিপ্লব, একটি আন্দোলন এবং কালজয়ী এক ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ তাঁকে বহু গুণের অধিকারী করে এই ধরায় প্রেরণ করেছিলেন। সুন্নতে নববীর পুরােপুরি অনুসরণ করা এবং ইসলাম ও দীনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করাসহ অনেক গুণাবলী তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল।

আল্লামা কাজী মু'তাসিম বিল্লাহ রহ, হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও খােলা মনের মানুষ ছিলেন। সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। লেবাস-পােশাক, আমল-আখলাকের দিক থেকে সুন্নতে রাসূলের মূর্তপ্রতীক ছিলেন। মমতা ও শিষ্টতা ছিল তাঁর গুণ। তিনি শায়খুল আরব ওয়াল আজম শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর অন্যতম সুযােগ্য শিষ্য ছিলেন এবং তিনি শায়খুল ইসলাম মাদানী রহ.-এর বিশিষ্ট খলীফা হযরত মাওলানা শায়খ তাজাম্মুল আলী রহ.-এর খলীফা ছিলেন। তিনি আলেমসমাজসহ সর্বস্তরের জণগণের অহঙ্কার ছিলেন।

উস্তাদের মুখে ছাত্রের প্রশংসা
আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ. কত বেশি প্রাজ্ঞ ছিলেন, তা উপমহাদেশের বিশিষ্ট হাদীসবিশারদ আল্লামা দরখাস্তী রহ.-এর মন্তব্য থেকেই বােঝা যায়। তিনি আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ. সম্পর্কে বলেন, “মু'তাসিম বিল্লাহ খাটো হলে কী হবে, তার মাটির উপরে যতটুকু আছে, মাটির নীচেও ততটুকু আছে।।

তাঁর বলিষ্ঠ কণ্ঠের বক্তৃতা
আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ. বহু ওয়াজ-নসীহত, সভা-সমিতি, সেমিনার সিম্পােজিয়ামে অংশ গ্রহণ করে জাতীয় খেদমতের এক মহােত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ওয়াজ-নসীহতের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিল তাঁর। তিনি যে কোনাে সময়, যে কোনাে বিষয়ে কুআন ও হাদীসের আলােকে দীর্ঘ আলােচনা করতে পারতেন। তাঁর ওয়াজ ও নসীহতে তাওহীদ, শিরক, বিদআত, সুন্নাহ, ইবাদাত, আখেরাত বেশি প্রাধান্য পেত। বিশেষ করে আকানি ও আসলাফের নমুনায় নিজেকে গড়ে তােলার জন্য বলতেন। মওদূদী জামাআতসহ সফল বাতিলের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সােচ্চার ছিলেন। তাঁর আলােচনা ছিল খুবই প্রাঞ্জল এবং তথ্যবহুল। প্রায়ই আলােচনার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তি করতেন। বাতিল প্রতিরােধে আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ. এই ধরাপৃষ্ঠে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সংগ্রাম করে গেছেন আজীবন। বাতিল যেখানেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল, তিনি সেখানেই তাঁর জ্ঞান দ্বারা বাতিলকে কুপােকাত করেছেন। আজীবন তাওহীদ ও সুন্নতের পক্ষে এবং বিদআতের বিরুদ্ধে সােচ্চার ছিলেন। কুসংস্কার থেকে দূরে থাকতেন। সবাইকে এ থেকে দূরে থাকতে বলতেন।

‘নিজ সন্তানকে সােনা-দানা না দিয়ে তাদেরকে সােনা বানাও’

কথাটা আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ.-এর একটি অমীয় বাণী। আমাদের সমাজে অনেককেই দেখি, তারা সবসময় সােনা-দানা, অর্থকড়ি বা টাকা-পয়সার পেছনে লেগেই থাকেন। তারা ভাবেন, নিজে যদি সন্তানাদির জন্য কিছু না রেখে যাই, তাহলে তারা কীভাবে চলবে বা কী খাবে? তিনি বলতেন, 'আরে ভাই! নিজ সন্তানকে সােনা-দানা না দিয়ে বরং তাদেরকে সােনা বানাও’। কারণ, তাদেরকে অযােগ্য রেখে যদি সােনা-দানা বা সম্পদ দিয়ে যাও তবে তারা তা খােয়াবে। আর যদি তাদেরকে যােগ্য বানিয়ে সােনাদানা বা সম্পদ নাও দিয়ে যাও, তবে তারা আরাে যােগাবে।

আকাবির ও আসলাফের মতাদর্শে অবিচলতা
হক ও হক্কানিয়াতের উপর অটল অবিচল ছিলেন আমাদের প্রিয় শায়খ আল্লামা কাজী মু'তাসিম বিল্লাহ রহ.। বিশেষ করে মওদূদী জামায়াত ও বেদয়াতীদের কথা গ্রাহ্যই করতে পারতেন না; বরং সব সময় সবাইকে মওদূদী ফেতনা বা জামায়াতে ইসলামী থেকে দূরে থাকার জন্য বলতেন। তিনি বলতেন, 'আমার জান চলে গেলেও আমি বলে যাব যে, তােমরা সবাই নবী ও সাহাবি বিদ্বেষী মওদূদী ফেতনা থেকে বেঁচে থাকবে, দূরে থাকবে। হযরত কাজী সাহেব রহ, আকাবির ও আসলাফের মতাদর্শে অটল ছিলেন, তাঁর একটি স্মরণীয় বাণী আমি এখানে উল্লেখ করছি।

তিনি বলতেন, ‘কেউ কেউ বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করি যে, মওদূদী জামায়াত ও জামায়াতে ইসলামী খারাপ-এ কথা যদি আমি প্রমাণ করতে পারি, তাহলে তারা সকলে আমার দলে এসে যাবে। আর যদি তারা নিজেদের হক প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি এবং আমার দল জামাতে ইসলামিতে যােগদান করব’। হযরত কাজী সাহেব হুজুর রহ. বলতেন, ‘তাদের এ কথার সাথে আমি একমত নই; বরং আমি বলি, আমি যদি প্রমাণ করতে পারি যে তারা বাতিল, তবে তারা আমার দলে এসে যাবে। আর যদি আমি প্রমাণ নাও করতে পারি যে তারা বাতিল, তারপরও আমি বা আমার দল তাদের দলে যােগদান করব না। কারণ, আমার আকাবির ও আসলাফ তাদেরকে ভ্রান্তদল হিসেবে আখ্যা দিয়ে গেছেন। আমি তাদেরকে বুঝাতে অক্ষম হলেও তাদেরকে ভ্রান্তই বলে যাব। কারণ, আমার আকাবির ও আসলাফ ভুল বলেননি’। এর দ্বারা আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে, আকাবির ও আসলাফের প্রতি তার কতটুকু আস্থা ছিল।

কর্মসূচী তাে দেওয়াই আছে, শুধু পালন করা জরুরী
১৯৯২ ইং সালের কথা। বাংলাদেশর ঐতিহ্যবাহী দীনী শিক্ষালয় শেখ জনুরুদ্দীন রহ. দারুল্ল কুরআন চৌধুরীপাড়া মাদরাসায় তাঁর শাগরেদ আল্লামা ইসহাক ফরিদী রহ.-এর আহবানে এক উলামা সমাবেশের আয়ােজন করা হয়। সেদিন সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছিলেন শায়খুল হাদীস আল্লামা কাজী মু'তাসিম বিল্লাহ রহ.। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বরেণ্য উলামায়ে কেরাম। বিষয় ছিল 'বর্তমান প্রেক্ষাপট ও উলামায়ে কেরামের করণীয় নির্ধারণ।’ উপস্থিত উলামায়ে কেরাম নির্ধারিত বিষয়ের উপর সারগর্ভ আলােচনা করলেন।

সভাপতির ভাষণে হযরত কাজী সাহেব রহ, দীর্ঘ আলােচনার পর উপস্থিত একজনের প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘কর্মসূচী তাে দেওয়াই আছে, নতুন করে কী কর্মসূচী চান? শুধু পালন করা জরুরী। যেমন আপনি একজন শিক্ষক, আপনি কি পুরােপুরি মুতালা করে ক্লাসে যান? ছাত্রদের পূর্ণ হক আপনার দ্বারা আদায় হয়? ছাত্রদের ব্যথা অন্তরে ধারণ করে আপনি ক্লাসে যান? মাদরাসার কোনাে দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া আছে। আপনি কি তা যথাযথ আদায় করেন? মাদরাসার কল্যাণে আপনার অবদান কী? আপনি একজন মাদরাসার মুহতামিম। আপনি কি আপনার অধীনস্তদের পুরােপুরি খোঁজ-খবর রাখেন? তাদের সাথে পরামর্শ করে আপনি কাজ করেন? আপনার মাদরাসা কি গীবত-শেকায়েতমুক্ত মাদরাসা? মাদরাসা হল হেফাজতে আমওয়ালে মুসলিমীন ও হেফাযতে আতফালে মুসলিমীন-এর নাম। আপনার দ্বারা কি এগুলাে হয়? আপনি একজন ইমাম। আপনি কি মুসল্লিদের সব হক আদায় করেন? পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ অন্যান্য জিম্মাদারী ঠিকভাবে আদায় করেন? নিজে তাদের দিকে ধাবিত না হয়ে মানুষকে দীনের দিকে ধাবিত করা আপনার দ্বারা হয়? আপনি একজন মসজিদের খতীব। এটি একটি বিশাল দায়িত্ব। মসজিদের মিম্বরের মালিক আপনি। আপনি কুরআন ও হাদীসের সহীহ ব্যাখ্যা মানুষের সামনে তুলে ধরেন? সামাজিক ও নৈতিক বেয়ের কথা কি আপনার মিম্বর থেকে মানুষ শুনতে পায়? আপনি একজন ওয়ায়েজ বা বক্তা। আপনি কি হক কথাগুলাে মানুষকে বলেন? শিরকমুক্ত ইবাদতের কথা মানুষকে আপনি শোনান? আপনি একজন পীর। আপনি কি মুরীদের খোঁজ-খবর রাখেন? মুরীদদেরকে দনিয়ামুখী না করে আখিরাতমুখী করা একজন হক্কানী পীরের দায়িত্ব ও কর্তব্য নয় কি? আপনি একজন সমাজপতি। আপনি কি আপামর জনতার খোঁজ-খবর রাখেন? সামাজিক চিন্তা-চেতনা আপনাকে ব্যথিত করে? আপনি একজন রাজনীতিবিদ। আপনি কি রাজনীতি বুঝেন? রাজনীতি মানে রাজার নীতি। আপনি কি তা নিয়ে ভাবেন? দেশ ও জনগণের ব্যথা। কি আপনাকে ভাবায়, কাদায়?’

সেদিনকার হযরত কাজী সাহেব রহ.-এর উপরােক্ত অভিনব ও সতেজ ভাষণ উপস্থিত সকলকে যেন অন্ধকার থেকে আলাের জগতে নিয়ে আসে। আমরা সবসময় নতুন কিছু চাই, তবে আমাদের পুরাতন কাজের খবরও নেই। বিষয়টি আসলেও ভাবার নয় কি? যারা এক বিন্দু ঘাম বিসর্জন দিতে জানেন না, তারা কেন এক বিন্দু রক্তের কথা বলেন?

শায়খুল হাদীস আল্লামা কাজী মু'তাসিম বিল্লাহ রহ.-এর একটি কথা আজ খুব মনে। পড়ে। তিনি বলতেন, 'আজ তাে ফ্যাশন হয়ে গেছে। বক্তার অভাব নেই। কথার অভাব নেই। লেখকের অভাব নেই। জ্বালাময়ী ভাষণ প্রায় সকলেই দেন। স্টেজে উঠতে পারলেই ভাবেন, আমি বড় কিছু হয়ে গেছি। আর যদি কখনাে কিছু বলার সুযােগ হয়, তবে তাে বিশাল ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়' । কাজী সাহেব রহ. বলতেন, 'অনেককে আমি বলতে শুনেছি। কথায় কথায় বলেন, 'এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবেই। আমরা এই করে ফেলব, সেই করে ফেলব। অথচ আমি বলি, এ জাতীয় বক্তাদের নিকট যদি এক বিন্দু ঘাম বিসর্জন চাওয়া হয়, তবে তারা তা দিতে প্রস্তুত হবে না বা তাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া। যাবে না।

একজন হক্কানী পীর ও এক ভণ্ডের লড়াই
আমাদের দেশে তাে ভণ্ড পীরের অভাব নেই। যেখানে সেখানে তথাকথিত পীরদরবেশদের পাওয়া যায়। তবে হক্কানী পীরের বড়ই অভাব। আর আমাদের জনসাধারণের অবস্থা হল, মােটা দেখলে বা চেহারা সুন্দর দেখলে তাকেই আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে ভেবে নয় বা তার কাছ থেকে কিছু পেতে চায়, যা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। নাউযুবিল্লাহ। তেমনি এক ভণ্ড সম্পর্কে কাজী সাহেব হুজুর নিম্মােক্ত উক্তি করেছিলেন। হযরত মাওলানা ফজলুল করীম রহ. (পীর সাহেব চরমােনাই) যখন জাতির সামনে মাহবুবে খােদা' নামক ভণ্ড দেওয়ানবাগী পীরের মুখােশ উন্মোচন করেন, তখন বিভিন্নজন বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ গণমাধ্যমে ব্যাপক হৈহুল্লোড় পড়ে যায়। তখন একটি দৈনিকে বিষয়টির শিরােনাম করে এভাবে, 'দুই পীরের লড়াই'। বিদগ্ধ আলেমে দীন আল্লামা কাজী মু'তাসিম বিল্লাহ রহ. শিরােনামটি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, 'শিরােনামটি একেবারেই ভুল। দুই পীরের লড়াই নয়; বরং একজন পীর ও এক ভণ্ডের লড়াই।

স্বল্পে তুষ্টি ছিল তাঁর স্বভাব
আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ. স্বল্পে তুষ্ট ছিলেন। লােভে পাপ, পাপে মৃত্যু। লােভের ধারে কাছেও তিনি ছিলেন না। সর্বদা আখিরাতমুখী ফিকিরে থাকতেন। দুনিয়ার প্রতি তার উচ্চাভিলাস বিলকুল ছিল না। ফলে মৃত্যুকালে তিনি উল্লেখযােগ্য কোনাে কিছুই উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যেতে পারেননি।

তিনি যা রেখে গেলেন
আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ.-এর ভক্ত অনুরক্তদের সংখ্যা অনেক। বিশেষ করে সারা বিশ্বে তাঁর অসংখ্য শিষ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমাদের দেশের বহু শায়খুল হাদীস, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও মুফতি তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে ধন্য হয়েছেন। স্বীয় ঔরসজাত সন্তানদেরকে যােগ্য বানিয়ে গেছেন। একমাত্র মেয়েকেও যােগ্য পাত্রে তুলে দিয়েছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর অমর কীর্তি জীবন্ত হয়ে থাকবে যুগ থেকে যুগান্তরে।

শেষ কথা
আল্লাহ তাআলা আমাদের সেরতাজ আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ.-কে জান্নাতের উচ্চাসনে সমাসীন করুন। দুনিয়ায় তাঁর পরিবারকে হেফাজত করুন। আমাদেরকে হেদায়েত নসীব করুন। তাঁর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত এবং তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লেখক: শায়খুল হাদিস ও সদরুল মুদাররিসিন, আব্দুল হাফিজ তাহসীনুল কুরআন মাদরাসা/জামিয়া আফতাব নগর ঢাকা।খতিব, কুড়িল কাজী বাড়ী জামে মসজিদ ভাটারা ঢাকা।

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ