আবুল ফাতাহ কাসেমী।।
অসহ্য যন্ত্রনায় মানুষের বাস। তবে এ মেকি যন্ত্রনা কখনো কখনো। এ সময়ে আমরা যা নির্মাণ করি তা এ যন্ত্রনারই এপিঠ ওপিঠ। কোরআনে বর্ণিত এ ভাব -‘আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট ক্লেশ আর যন্ত্রনাবস্থায়’— এ দিকটাতেই ইঙ্গিত করে। মানুষের মৃত্যুও যে এ অসহ্য যন্ত্রনার অনুষঙ্গ তা আমরা ক’জন উপলব্ধি করি। অন্তত আকাবির বিয়োগের এ কালটায়।
যুগে যুগে সাদামাটা যিন্দেগীর অনেক আকাবির আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছেন। অনেককেই আমরা দেখেনি কিন্তু তাঁদের প্রকৃত উত্তরসূরীদের দেখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়েছি। আমাদের মত অপাঙক্তেয়দের জন্য এটা কত বড় খোশনসীব।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে ক’জন আকাবির আমাদের ছেড়ে লাব্বাইক বলেছেন নিঃসন্দেহ উস্তাদুল মুহতারাম, উস্তাদুল আসাতিযা আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ. তাঁদের অন্যতম। মৃত্যুর বছর হযরত যখন একদম মাযুর হয়ে পড়লেন তখন হযরতের ভক্তদের মধ্যে আহত পাখির মত আঘাত লাগলো। আমাদের দাওরা হাদীসের বছর। তাই আমরাও ভয়ে ছিলাম। হায়! হযরতের দরসে বসার সৌভাগ্য বুঝি আর হবে না। আল্লাহ আমাদের উপর মেহেরবানী করেছেন। আমাদের মতো নগন্য ছাত্রদেরও হযরতের আকাশসম ছাত্রদের জুতার সারিতে পা রাখার তৌফিক হয়। হযরতের হাদীসের মসনদে কপাল ঠেকিয়ে নাজাতের উসিলা খোঁজার নেয়ামত পাই।
ব্যক্তিত্বের ব্যপ্ততা, চিন্তার গভীরতা, জ্ঞান ও বৈশ্বাসিক দৃঢ়তা, আপন চিন্তা রসে পারঙ্গমতা ইত্যাদি গুনাবলী ছিল হযরতের মনুষ্য চেতনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে মেধা গড়ার অসীম দক্ষতার এ কারে নবুওয়াতকে আমরা কালের আয়নায় দেখে উচ্চস্বরে বলি- ‘যার নযির পৃথিবীতে থাকলেও আমাদের বাংলাদেশে অতটা নেই’। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুনিয়া বিমুখতার এ উপমা প্রায় শুণ্যের ঘরে। যেমনটি ছিলেন তাঁর উস্তাদ ও মুরশিদ কুতুবুল আলম শাইখুল ইসলাম হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.। আমি কাজি সাহেব হুজুর রহ. এর জীবনের তিনটি পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করতে চাই।
উস্তাদ শাগরিদ সর্ম্পক
আমরা আকাবিরের যিন্দেগীতে উস্তাদ-শাগরিদের সম্পর্কের কথা পড়েছি। হুজ্জাতুল ইসলাম আর শাইখুল হিন্দের সম্পর্কের কথা শুনেছি। শাইখুল হিন্দ আর শাইখুল ইসলামের মাল্টার কাহিনী পড়েছি। হযরত কাশ্মিরী এবং বানুরী রহ. এর সম্পর্কের কথা উস্তাদদের মুখে শুনেছি। সম্পর্কের এ ফিরিস্তি গড়ার। বাঁচা এবং মরার। গাঁথুনিটা যদিও তৈরি হয় আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের বাণী-‘আল কাওয়ায়ীà