শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ ।। ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২০ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ডেঙ্গুর লার্ভা যে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে, জরিমানা ধরা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরানের রাডার স্টেশনে মার্কিন বাহিনীর হামলা জনশুমারিতে অংশ নেওয়া জাতীয় ও ধর্মীয় দায়িত্ব: খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানী খেলাফত মজলিস গাইবান্ধা জেলা শাখার তরবিয়তি মজলিস অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ক্রমেই অবরুদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে: মাওলানা ফজলুর রহমান গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে: মির্জা ফখরুল অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে ভারত দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি গঠন: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ টাঙ্গাইলে বজ্রপাতে বাবা-মেয়ের মৃত্যু

ওহীর শাব্দিক অর্থ ও তার প্রকার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি আব্দুর রহমান: মানুষের জীবন সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা নবী-রাসুলদের কাছে বিধান পাঠিয়েছেন। নবী-রাসুলরা সে জীবন বিধান মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। وحي-এর শব্দিক অর্থ: গোপনে দ্রুত ইঙ্গিত করা’। আল্লাহর পক্ষ হতে জিবরাঈল আ. এর মাধ্যেমে হুজুর সা. এর নিকট যে আহকাম নাযিল হয়েছে, তাকে ওহী বলা হয়।

وحي দুই প্রকার। প্রথম প্রকার: প্রত্যক্ষ ওহী; যার নাম ‘কিতাবুল্লাহ’ বা ‘আল-কুরআন’। এর ভাব, ভাষা উভয়ই মহান আল্লাহর। রাসূলুল্লাহ সা. তা হুবহু প্রকাশ করেছেন।

দ্বিতীয় প্রকার: পরোক্ষ ওহী যার নাম ‘سنة’ বা ‘حديث’। এর ভাব আল্লাহর, তবে নবী সা. তা নিজের ভাষায়, নিজের কথায়, নিজের কাজ ও সম্মতির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। প্রথম প্রকারের ওহী রাসূলুল্লাহ সা.-এর উপর সরাসরি নাযিল হতো এবং তাঁর কাছে উপস্থিত লোকজন তা উপলব্ধি করতে পারতো। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকারের ওহী তাঁর উপর প্রচ্ছন্নভাবে নাযিল হতো এবং অন্যরা তা উপলব্ধি করতে পারতো না।

আল্লাহ তা’আলা কুরআনুল কারীমে মানব জাতিকে একটি আদর্শ অনুসরণের ও বিধি-বিধান পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু এর বিস্তারিত বিবরণ দান করেননি। এর ভার রাসূলুল্লাহ সা.- এর উপর ন্যস্ত করেছেন। তিনি নিজের কথা-কাজ ও আচার-আচরনের মাধ্যমে কুরআনে কারীমের আদর্শ ও বিধান বাস্তবায়নের পন্থা ও নিয়ম কানূন বলে দিয়েছেন। কুরআনে কারীমকে কেন্দ্র করেই তিনি ইসলামের এক পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধান পেশ করেছেন। অন্য কথায়, কুরআন মজীদের শিক্ষা ও নির্দেশসমূহ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করার জন্য নবী সা. যে পন্থা অবলম্বন করেছেন, তাই হচ্ছে হাদীস।

 

হাদীসও যে ওহীর সূত্রে প্রাপ্ত তার প্রমান:

হাদীসও যে ওহীর সূত্রে প্রাপ্ত এবং তা শরীআ‘তের অন্যতম উৎস কুরআনুল কারীম ও মহানবী সা.-এর বাণীর মধ্যেই তার প্রমাণ বিদ্যমান। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী সা. সম্পর্কে বলেন:

وَمَا يَنطِقُ عَنِ الهوَىٰ .إِن هُوَ إِلَّا وَحيٌ يُوحيٰ

অর্থ: “আর তিনি (নবী) মনগড়া কথা বলেন না, এ তো ওহী যা তাঁর প্রতি নাযিল করা হয়”। (সূরা নাজম : ৩-৪)

وَلَو تَقَوَّلَ عَلَينَا بَعضَ الأَقَأويلِ .لَأَخَذنَا مِنهُ بِاليَمِينِ .ثُمَّ لَقَطَعنَا مِنهُ الوَتِينَ

অর্থ: “তিনি (নবী) যদি আমার নামে কিছু রচনা করতে চেষ্টা করতেন আমি অবশ্যই তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং তাঁর জীবনধমনী কেটে দিতাম ”। (৬৯ : ৪৪-৪৫)

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُم عَنهُ فَانتَهُوا

অর্থ: “রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা হাশর : আয়াত : ৭)

লেখক: সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া জহিরুদ্দিন আহমদ মাদরাসা মানিকনগর, ঢাকা।

ওআই/আব্দুল্লাহ আফফান


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ