আওয়ার ইসলাম: করোনা ভাইরাস মহামারিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন গতিশীল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের সমাপনী পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও আবাসিক হলগুলো খুলে দিতে হলে জাতীয় সিদ্ধান্ত লাগবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহা. আখতারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে উপাচার্য কার্যালয়ে হল খুলে দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি একথা জানান।
প্যানডেমিক পরিস্থিতিতে হল খুলতে জাতীয় সিদ্ধান্তের প্রয়োজন- জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা হল খোলার দাবি জানালেও বিচ্ছিন্নভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীরা যেন সেশনজটে না পড়ে সেজন্য পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাবি প্রশাসন। কিন্তু আবাসিক হল না খুলে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক ও অযৌক্তিক’ বলছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সেই দাবি নিয়ে স্নাতক সমাপনী বর্ষ ও স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগের সঙ্গে বৈঠকে আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অসুবিধা ও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে হলে থেকে পড়ালেখা করে। তাদের জন্য এখন এই পরিস্থিতিতে ঢাকায় থাকাটা ‘একটু’ কষ্ট হবে। তবে এই মহামারিতে শিক্ষার্থীদের এই কষ্টের চেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠনসহ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আামি দ্বিমত পোষণ করছি না। তবে এটি স্বাভাবিক বন্ধ হলে প্রশাসন সিদ্ধান্তে যেতে পারতো। এই বন্ধটি হলো প্যানডেমিক উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য। এখানে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে বড় আকারে ঝুঁকি সম্ভাবনা আছে। কেউ কেউ মামলাও করতে পারে। আন্তর্জাতিভাবেও কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে যে, জাতীয় সিদ্ধান্ত একরকম, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত আরেক রকম।
তিনি আরও বলেন, পুরো জাতিকে আমরা অন্যদিকে নিয়ে যেতে পারি না। কেউ এটাকে বলবে ‘ট্রাম্পের মতো আচরণ’। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে হল খুলতে জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্ত লাগবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত লাগবে।
ছাত্রলীগ নেতারা অল্প সময়ে ঢাকায় শিক্ষার্থীদের বাসা ভাড়ার সমস্যা ও নারী শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা তুলে ধরলে উপাচার্য বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটু অসুবিধা হবে। তবে অনুষদ এবং বিভাগগুলোকে শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করে তাদের মতামত নিয়ে পরীক্ষা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। যাদের খুব সমস্যা, তাদের বিষয়ে সহযোগিতা করতে বলেছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না থাকে, সেজন্যই মূলত পরীক্ষা নেয়া।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার দাবিতে গত বুধবার সকাল ১১টা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
-এএ