মুফতি নূর মুহাম্মদ রাহমানী।।
হারাম মাধ্যমে উপার্জন করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। অবৈধ পন্থায় সম্পদের মালিক হওয়ার ব্যাপারে ইসলাম সতর্ক করেছে এবং এমন পন্থা অবলম্বনকারীদের জন্য দুনিয়াতে ও আখেরাতে শাস্তির ধমক রয়েছে। এসব অবৈধপন্থা আল্লাহর অসন্তুষ্টি এবং জাহান্নামে দগ্ধ হওয়ার কারণ। তাই হারাম পথে উপার্জনকারীদের অতি তওবা করে মানুষের সম্পদ শরিয়তসম্মত পন্থায় তাদের ফেরত দেওয়া উচিত। অবৈধ উপার্জনের কিছু পন্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। যেন এসব বর্জন করা সহজ হয়।
প্রথমে উল্লেখ করছি সুদের কথা। এটি মারাত্মক ও জঘন্য অপরাধ। নিকৃষ্ট পাপাচার। একমাত্র অবাধ্য, পাপিষ্ঠ ও আল্লাহদ্রোহী ব্যক্তিই সুদের সাথে জড়িত হতে পারে। পবিত্র কোরআনে এমন লোকদের কঠিন পরিণতির বর্ণনা করে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যারা সুদ খায়, তারা (কিয়ামতের দিন) এমনভাবে দÐায়মান হবে, যেভাবে দÐায়মান হয় ঔই ব্যক্তি, যাকে শয়তান তার স্পর্শের দ্বারা মোহাবিষ্ট করে দেয়।
তাদের এ অবস্থার কারণ হলো, তারা বলেছে, ক্রয়-বিক্রয় তো সুদ নেওয়ার মতোই! অথচ আল্লাহ তায়ালা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা বাকারা: ২৭৫)। সুদ পরিত্যাগ না করলে তার জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে যুদ্ধের ঘোষণা। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর যদি তোমরা (সুদ) পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে।
তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।’ (সুরা বাকারা : ২৭৯)। সুদখোরকে জান্নাতে প্রবেশ না করানো মহান আল্লাহর অধিকার। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘চার শ্রেণির মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ না করানো এবং তাঁর নিয়ামতের স্বাদ উপভোগ করতে না দেওয়া আল্লাহ তায়ালার অধিকার। ১. মাদকাসক্ত, ২. সুদগ্রহীতা, ৩. অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ ভক্ষণকারী ও ৪. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।’ (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস : ২৬০)। সুদ সংশ্লিষ্ট সবার ওপর রাসুল (সা.) অভিসম্পাত করেছেন।
জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক ও সুদের সাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে তারা সবাই সমান।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৫৯৮)
দ্বিতীয়ত মজুতদারি ও গুদামজাত করা। অধিক লাভে বিক্রি করার আশায় পণ্য মজুদ রেখে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করাকে গুদামজাত বলে। এটি একটি ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট উপার্জনের পন্থা। ইসলাম যে সকল অপরাধ থেকে সতর্ক করেছে, সেগুলোর অন্যতম হলো মজুতদারি। ওমাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গুদামজাত করল, সে একজন পাপী।’ (মুসলিম, হাদিস : à§