সুহাইল আবদুল কাইয়ূম।।
ইসলামপূর্ব যুগে নির্ধারিত মেয়াদে ক্রেতা মূল্য পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ক্রেতা বিক্রেতাকে সময় বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করতো এবং অতিরিক্ত সময় দেওয়ার বিনিময়ে তাকে সুদ প্রদানের প্রস্তাব করতো। এতে বিক্রিতা সম্মত হতো। এভাবে পাওনা পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়াকে ইসলাম যখন সুদরূপে চিহিৃত করে একে হারাম ঘোষণা করলো তখন ইয়াহুদীরা আপত্তি করলো, ‘বেচা-কেনার শুরুতে মূল্য বাড়িয়ে অতিরিক্ত লাভ নেওয়া আর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর সময়ানুপাতে অতিরিক্ত লাভ নেওয়া একই কথা। তখন পবিত্র কুরআনে এ মন্তব্যের কঠোর ভাষায় তিরস্কার করা হয়েছে।
ঘোষনা করা হয়েছে ‘যারা সুদ খায় তারা তার মতো, যার উপর শয়তান ভর করেছে। এটা এ কারণে যে, তারা বলে ক্রয়-বিক্রয় (বেচাকেনা) তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন আর সুদকে করেছেন হারাম। -সূরা আলেইমরান : ২৭৫। তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম : ২/৪৫৪।
অনেকে মনে করেন, বিশেষ করে যারা সুদের সাথে জড়িত তারা মনে করেন, সুদ আর মুনাফা একই জিনিস। এতদুভয়ের মাঝে উলেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই। উনিশ আর বিশ। সুদ সরাসরি খাওয়া হয় আর মুনাফা একটু ঘুরিয়ে খাওয়া হয়। তাদের ধারণা সঠিক নয়। মূলত এতদুভয়ের মাঝে রয়েছে বিরাট পার্থক্য।
সুদ শরিয়তে হারাম। আল্লাহ তাআলা সুদের ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন ‘তোমরা যদি সুদ পরিত্যাগ না করো তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। -সূরা বাকারা : ২৭৯। লানত ও অভিসম্পাত করেছেন বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) সুদের কারবারে সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি।
হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীস রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুদের মধ্যে সত্তরটি পাপ রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বনিম্ন পাপ হচ্ছে, নিজের মায়ের সাথে অপকর্মে লিপ্ত হওয়া।- ইবনে মাজাহ : হাদীস নং-২২৭৪। পক্ষান্তরে শরিয়ত সমর্থিত পন্থায় অর্জিত অর্থ তথা মুনাফা হালাল। এর উপার্জনকারী সাওয়াবের অধিকারী। তাঁর প্রতি থাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর রহমতের দৃষ্টি।
অনেক ক্ষেত্রে সুদ আর মুনাফা বিষয় দুটিকে এক মনে হলেও এতদুভয়ের মাঝে রয়েছে মৌলিক ও পদ্ধতিগত পার্থক্য। গভীরভাবে চিন্তা না করলে এ পার্থক্য অনেক সময় বুঝা যায় না। বিষয়টি সহজে বুঝার জন্য চমৎকার একটি উদাহরণ দিয়েছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেমে দীন আল্লামা ড. ইউসুফ কারযাবী।
এক ব্যক্তি জনসম্মুখে এক ব্যক্তিকে যদি বলে, ‘আপনি আপনার মেয়েটিকে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য আমার কাছে সমর্পণ করুন।
এর বিনিময়ে আমি তাকে এক লাখ টাকা দিবো।’ লোকটি এবং তার মেয়ে যদি এ প্রস্তাবে রাজি হন তাহলে তারা যে কাজটি করবেন তা হবে একটি জঘন্য অপরাধ। পক্ষান্তরে লোকটি যদি অন্যভাবে বলেন, ‘আপনি আপনার মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিন। তাকে মোহরানাস্বরূপ এক লাখ টাকা আমি দিবো।’ লোকটি এবং তার মেয়ে যদি এ প্রস্তাব গ্রহণ করে তাহলে তাদের সম্