বেলায়েত হুসাইন ।।
মিশরের ধর্মমন্ত্রী মুহাম্মাদ মুখতার জুমা সেদেশের মসজিদগুলোতে লাউডস্পিকারে কোরআন তেলাওয়াত চালুর ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়ার পরে দেশটির জনগণ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছে। মন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে মিশরীয়রা নিজ নিজ বাড়িতেই মাইকে কোরআন তেলাওয়াত চালুর ব্যবস্থা করেছে।
গতকাল রোববার আল জাজিরা জানায়, রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই মাগরিবের আজানের আগে মিশরের একাধিক জেলায় অসংখ্য বাড়ি থেকে লাউডস্পিকারে পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াত ধ্বনিত হয়। আল জাজিরা মুবাশিরের প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সড়কের দিকে মুখ করে বাড়ির ছাদে লাগানো মাইক থেকে একযোগে কোরআন তেলাওয়াত চালু করা হয়েছে।
খবরে আরও জানানো হয়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মিশরের মসজিদগুলোতে সাধারণদের নামাজে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞারোপ করেছে দেশটির সরকার। এই প্রেক্ষিতে মুসলিম অধ্যুষিত দেশটির প্রত্যেক নাগরিক ইমাম এবং প্রতিটি বাড়িই যেন অস্থায়ী মসজিদে রূপান্তরিত হয়েছে। আল জাজিরার অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মিশরের জনগণ নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনা ও ছাদে স্বল্প পরিসরে পরিবারের সঙ্গে তারাবির জামাত করছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাইকে তেলাওয়াত চালুর ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে মিশর ধর্মমন্ত্রণালয়ের সমালোচনা শুরু হলে তারা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। গণমাধ্যমে প্রেরিত মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সর্বসাধারণের জীবনের নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য মুসলিম দেশেসমূহের মতো মিশরের মসজিদে বড় পরিসরে জামাত নিষিদ্ধ করা হলেও লাউডস্পিকারে কোরআন তেলাওয়াত চালু করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি।
তাছাড়া, মাগরিবের পূর্বমুহূর্ত এবং ফজরের আগে- যেকোনো সময়েই মসজিদের মাইকে তেলাওয়াত চালু করতে কোন বাধা নেই বলেও স্পষ্ট করেছে ধর্মমন্ত্রণালয় কতৃপক্ষ।
আল জাজিরা আরবি অবলম্বনে বেলায়েত হুসাইন
ওআই/আবদুল্লাহ তামিম