মাওলানা তৈয়ব উল্লাহ নাসিম।।
এক.
রোজা শুধু উপবাস থাকার নাম নয়। পানাহার বর্জন করলেই রোজা রাখা হয়ে যায় না। রোজা হল আত্মশুদ্ধির পরিপূর্ণ একটি পাঠ, আর রমজান হল তার পাঠশালা।
হাদিসে পাকে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও পাপাচার ছাড়তে পারলো না, তার পানাহারে বর্জনের কোন প্রয়োজন নেই আল্লাহর নিকট। (বুখারি)
আমরা যদি এই পাঠশালায় পূর্ণরুপে আধ্যায়ন করে আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ নিই, তবেই এই প্রশিক্ষণের আলোকে পুরো বছর আল্লাহর সন্তুষ্টি ও প্রদর্শিত পদ্ধতিতে জীবন যাপন করতে পারবো। কারণ মানুষ প্রশিক্ষণ নেয় আগত সময় তার আলোকে পরিচালনার জন্য। সুতরাং পানাহার বর্জনের পাশাপাশি আমাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোর রোজাও বাস্তবায়ন করতে হবে।
দুই.
অন্তরের জন্য রয়েছে রোজা।আমাদের জিহ্বার জন্যও রোজা পালন অত্যন্ত জরুরী।চক্ষু, কর্ণ, উদর সবকিছুর জন্য রয়েছে রোজা। এই সবকিছুর রোজা সমষ্টিগতভাবে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারলে তবেই আমাদের রোজা পরিপূর্ণরুপে আদায় হবে এবং এর দ্বারাই হবে আমাদের প্রকৃত আত্মশুদ্ধি।যা আল্লাহ তাআলা আমদের কাছ থেকে চান।
এতে করে আমরা পাবো মহান আল্লাহ তাআলার ঘোষিত সে পুরস্কার যা তিনি নিজ হাতে দিবেন বলে অঙ্গিকার করেছেন।
ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা রা, থেকে বর্ণীত রাসুল সা, বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আদম সন্তানের প্রত্যেকটি আমল তার জন্য, একমাত্র রোজা ছাড়া। রোজা শুধুই আমার জন্য এবং এর বিনিময় আমি স্বয়ং দেবো। (বুখারি,মুসলিম)
অর্থাৎ নামাজ, জাকাত, হজ্ব ইত্যাদী যদি মানুষ না আদায় করে, তবে সবাই জানবে। কারণ একজন মানুষ সুস্থ সবল হয়েও মসজিদ মুখি না হলে, লোকে দেখবে, বেনামাজি বলে সমালোচনা করবে। তদ্রুপ সম্পদশালী হয়েও যাকাত না আদায় করলে এবং হজ্ব পালন না করলে, আশপাশের মানুষ জানবে, সমালোচনা করবে।
কিন্তু রোজা এমন এক এবাদত, যা বান্দা আদায় করছে কি না তা একমাত্র আল্লাহই জানতে পারেন। কারণ কাউকে না জানিয়ে চুপি চুপি পানাহার করে, লোক সম্মুখে নিজেকে রোজাদার বলে প্রকাশ করলে আল্লাহ ছাড়া তার এই লুকোচুরি আর কেউ জানবে না। এখানেই হলো রোজা ও অন্য আমলের তফাৎ।
সুতরাং কেউ যদি রমজানের এই আত্মশুদ্ধির পাঠশালায় নিজেকে শুদ্ধ করে নিতে পারে, তাহলে আরেকটি পাঠশালার আগমন পর্যন্ত পরিশুদ্ধভাবে নিজের জীবন পরিচালনা করতে পারবে সারাটি বছর।
তিন.
(ক) অন্তরের রোজা।
অন্তরের শুদ্ধতা হল সকল হিদায়াতের মূল। হাদিসে পাকে ইরশাদ হয়েছে, মনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি অঙ্গ রয়েছে যার পরিশুদ্ধতার উপর পুরো শরীরের শুদ্ধতা নির্ভর করে এবং যার অনিষ্ট পুরো শরীরের অনিষ্টতা, আর সেটা হল অন্তর। (বুখারি,মুসলিম)
সুতরাং আপনার অন্তরের শুদ্ধতà¦