বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


বইকে ভালোবেসে ভুল করিনি ।। মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আমি বইকে বাঁধতে চেয়েছি সুন্দর একটি বিশেষণে। একজন বাদশাহ শাহজাহান যেমন বাঁধতে চেয়েছেন প্রিয়সী মমতাজকে তাজমহলের শ্বেত পাথরে- হয়তো তেমনি। মনের সিন্ধু সেঁচে তুলে এনেছি কতো মনোহর মনি মুক্তা-মানুষ যাকে শব্দ বলে। দেখেছি, আমার বইকে আঁকতে পারে না কেউ তার একক আরশিতে।

আমি বোকার মতো ভাবি আর অবাক হই। তিন দশক ধরে হৃদয়ের জারিত রসে হৃদয়ে পুষেছি যে বই- কখনো তো ভাঙতে চাইনি-কী তার গহন পরিচয়? কোন সখ্যে তারে ধরে রেখেছি পাঁজরের ভেতর? আজ যখন ভাঙতে গেছি বাঁধনের রহস্য- দেখি আমার সবটাই তার অধিকারে। আল্লাহর কালাম কোরআনকে যদি বই ধরি, প্রাণের শাহানশাহ প্রিয়তম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস ভাণ্ডারকে যদি ধরি গ্রন্থিত ময়ূখরেখা- তাহলে তো বই ছাড়া আমি অন্ধ। বাবার মতো নিঃস্বার্থ রাখাল; মায়ের মতো মমতাময়ী পালিকা; শিক্ষকের মতো স্বাপ্নিক কৃষক; ভায়ের মতো আস্থাভাজন শুভার্থী; বোনের মতো কল্যাণ-বিলানে আকুল এবং প্রিয়সীর মতো বিজয় প্রত্যাশায় উন্মাদিনী- সে তো কেবল বই। পরম আস্থায় নিঃশঙ্ক উদারতায় নিজের ভেতরকার সবটুকু সুন্দর উপুর করে ঢেলে দেয়- এমন হিতৈষী বান্ধব জগতে আর কে? কী আশ্চর্য, শুধু দিতেই জানে। নিজের মধ্যে এইটুকু জমিয়ে রাখবার কোনো বিদ্যাই তার জানা নেই। যতই ভাবি, বইপোকা বইপাগল আর বইপ্রেমিক গোত্রের শব্দগুলো যেন সোনার পায়রা হয়ে চেতনায় পাক খেতে থাকে। মনে হতে থাকে- বইকে ভালোবেসে ভুল করিনি!

দুই.
স্বীকার না করে উপায় নেই, বইকে আমি ভালোই বেসেছি নাদানের মতো- ধারণ করতে পারিনি। কোনো ভালো মাখনমাখা গ্রন্থের নাম শুনেছি তো বরাবর ছুঁয়ে দেখার জন্য আকুল হয়েছি। আমার সৌভাগ্য- বইকে ভালোবেসে আমি ক্লান্ত হইনি! অবশ্য কৃষকের মতো আমারও স্বপ্ন আছে। ফলনের অভাবে মাঝেমধ্যে আমিও চুপসে যাই। আবার হতাশার বরফ থেকে আমাকে তুলে আনে আমার সেই আকৈশোর বান্ধব বই। তুলে এনে আবার বসিয়ে দেয় স্বপ্নের টেবিলে।

ভাষা ও বইয়ের মাস এই ফেব্রুয়ারিতে- বাংলা ভাষায়- আমার কিছু প্রিয় গ্রন্থের কথা বলতে চাই। নব্বইয়ের দশক আমার জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই দশকে আমি ভাবতে শুরু করি। জীবন স্বপ্ন গন্তব্য শপথ- এই কথাগুলো আমাকে আমার চলমান স্রোতের ভেতরই আলাদা করে তুলে। ক’জন বন্ধুর অনুগ্রহের কথা আমি ভুলব না। তারপরও আমাকে স্বপ্নহীন উদার স্রোতের মতো প্রচণ্ড কলরবে ছুটে চলা কাফেলা থেকে স্বযত্নে আলাদা করে দিয়েছিল সে আমার জীবনসারথী ‘বই’।

নাম করে বলি- বইয়ের নাম ‘আলোর পরশ।’ বয়সটা প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানোর। কৈশোর পার করছি। মেঘ-বিধৌত নির্মল আকাশের মতো স্ফটিক শুভ্র একটি মন নিয়ে ঢাকা এসেছি। মনটা যতটা না