আওয়ার ইসলাম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ইতিমধ্যে ২৩ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু চীনেই এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২১৩ জন মারা গেছে। এছাড়া দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার জন। এ অবস্থায় এরই মধ্যে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এক জরুরি বৈঠকের পর সংস্থাটির তরফ থেকে এই ঘোষণা আসে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পেছনে কারণ হিসেবে, ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এবং এটি এখন শুধু চীনের উদ্বেগের বিষয় নয় বরং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও-এর প্রধান টেড্রস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, ‘জরুরি অবস্থা ঘোষণার পেছনে মূল কারণ চীনে যা ঘটছে তা নয় বরং অন্যান্য দেশে এটা ছড়িয়ে পড়ছে, এটা আশঙ্কার।’ উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে যেসব দেশের স্বাস্থ্যসেবা ততটা উন্নত নয়, সেসব দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া।
আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ভারত, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফিলিপাইন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, আরব আমিরাত, ভিয়েতনামে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, করোনাভাইরাসে অস্ট্রেলিয়ায় ৯ জন, কম্বোডিয়ায় ১ জন, কানাডায় ৩ জন, চীনে ৯, ৮০৯ জন, ফ্রান্সে ৬ জন ফিনল্যান্ডে ১ জন, জার্মানিতে ৬ জন, ভারতে ১ জন, ইতালিতে ২ জন , জাপানে ১৪ জন, মালয়েশিয়াতে ৮ জন, নেপালে ১ জন, ফিলিপাইনে ১ জন, রাশিয়ায় ২ জন, সিঙ্গাপুরে ১৬ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১১জন, শ্রীলংকায় ১ জন, তাইওয়ানে ৮ জন থাইল্যান্ডে ১৯ জন ব্রিটেনে ২ জন, ভিয়েতনামে ৫ জন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিগত দশকে পাঁচটি আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। ২০০৯ সালে এইচওয়ান সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের জন্য, ২০১৩ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব, ২০১৪ সালে পোলিও, ২০১৬ সালে জিকা ভাইরাস এবং ২০১৯ সালে আবারও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের জন্য।
-এটি