সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৩ রজব ১৪৪৭


‘ওয়াজ মাহফিলে সরকার বাধা দিচ্ছে’ মন্তব্য করে তোপের মুখে এমপি হারুন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ‘ওয়াজ মাহফিলে সরকার বাধা দিচ্ছে’- এমন মন্তব্য করায় জাতীয় সংসদে তোপের মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদকে।

জামায়াতে ইসলামীর ইন্ধনে এমন মিথ্যা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয়েছে দাবি করে তাকে তুলাধোনা করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে হারুনুর রশীদ সংবিধানে থাকা বিসমিল্লাহ এবং ওয়াজ মাহফিল নিয়ে কিছু মন্তব্য করলে অধিবেশন খানিকটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

পরে তারা বক্তব্য দিতে উঠে বলেন, বিএনপির এমপি ধর্মের নামে মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছেন।

জামায়াতপন্থিদের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলে তিনি সাম্প্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। যারা প্রকৃত তাফসির মাহফিল বা ওরস করছেন বা বিভিন্ন স্থানে ইসলামী জলসা করছেন, তাদের বরং রাষ্ট্র ও সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বিএনপি এমপি হারুনুর রশীদের বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জের দাবিও জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংশোধিত সংবিধানে পূর্বে থাকা 'সর্বশক্তিমান আল্লাহ'র প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস হবে যাবতীয় কাজের ভিত্তি উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা হয়েছে। সংবিধানের প্রস্তাবনায় পূর্বের 'বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিম' এর পরিবর্তে সংযোজিত হয়েছে 'দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে, পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে'। বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিমের প্রকৃত অর্থ সংবিধানে সংযোজিত হওয়া উচিত।

এমপি হারুন অভিযোগ করেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানরা তাদের সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে চলেছেন। অথচ যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী তারা তাফসির মাহফিল করতে গেলে নিষেধাজ্ঞা ও আপত্তি আসছে। এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা 'নো নো' বলে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

পরে এ বিষয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ বলেন, দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই সমানভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন। দেশের সব জায়গায় জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিল হচ্ছে, আল্লাহ-রাসুলের কথা বলা হচ্ছে। শুধু জামায়াতি পন্থায় বিভ্রান্তিকর শিক্ষা-দীক্ষা যাতে মানুষ না নেয়, যাতে তারা দেশটাকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত না করতে পারে, সেজন্যও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু ইসলামের কোনো কার্যকলাপে সরকারের পক্ষে বাধা সৃষ্টির প্রশ্নই ওঠে না। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ আন্তর্জাতিকভাবে, সারাবিশ্বে ইসলাম ধর্মকে এবং বাংলাদেশকে জঙ্গি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। আমরা এ দেশকে কোনোভাবেই জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হতে দিতে চাই না। আমরা চাই সত্যিকারের ইসলাম ও মহানবীর ইসলাম যাতে কার্যকর হয়। ইসলাম আছে, ইসলাম থাকবে, বাংলাদেশে চিরদিন মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা হবে।

কঠোর সমালোচনা করে সরকারদলীয় হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, সংবিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে আগের মতোই বিএনপির এমপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করলেন। তিনি 'বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিম'-এর ব্যাখ্যা হিসেবে অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটাই বিএনপির চিরাচরিত রাজনীতি। নির্বাচনের সময় বিএনপি-জামায়াত ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিল, 'ধানের শীষে ভোট দিলে বেহেস্তের টিকিট পাওয়া যাবে, আর নৌকায় ভোট দিলে ইসলাম থাকবে না, বউ তালাক হয়ে যাবে!' কোরআন-হাদিসের কোথায় এসব কথা বলা হয়েছে বা বাক্য নাজিল হয়েছে, সেই ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেন না।

ধর্ম নিয়ে বিএনপির অপরাজনীতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপির সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। বিএনপিকে ধানের শীষে ভোট দিলে বেহেস্তের টিকিট পাওয়া যাবে- এমন কোনো হাদিস রাসুল স. দেননি। ঢাকা সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই সংসদে এমন মিথ্যাচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সারাদেশেই ইছালে সওয়াব তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আমরা বিএনপির আমলের মতো ওরসে বোমা হামলা করতে দেইনি। হজরত শাহজালালের রহ. মাজারে বোমা হামলা করতে দেইনি। ইসলামকে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সব ব্যবস্থা নিয়েছি। ইসলাম ও ধর্মের নামে যারা বিভিন্ন ফতোয়া দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যরা এবং গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে কথা বলছেন। বিএনপি এমপি হারুনের উস্কানিমূলক বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি জানান তিনি।

-এএ


সম্পর্কিত খবর