আওয়ার ইসলাম: ‘করোনাভাইরাসে’ সংক্রমিত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণের সংখ্যা ৭,৭১১।
আজ বৃহম্পতিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির ন্যাশনাল হেল্থ কমিশন। সর্বশেষ তিব্বতে একজন রোগী শনাক্তের নেয়ার মধ্য দিয়ে চীনের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লো এ ভাইরাস।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী,২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে ৭,৭১১ জন। চীন ছাড়াও বিশ্বের ১৮টি দেশে ৭৮ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রহস্যজনক এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না, বরং আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। একজন বিশেষজ্ঞের বরাত দিয়ে চীনা গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করতে পারে।
এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করা হবে কিনা, তা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আলোচনায় বসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিএইচও)।
গতকাল বুধবার সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেরবাইয়াসেস বলেন, গত কয়েক দিনে ভাইরাসটির অগ্রগতি, বিশেষত কিছু দেশে, বিশেষত মানব-থেকে মানবিক সংক্রমণ, আমাদের উদ্বেগিত করেছে। চীনের বাইরে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও অনেক বড় প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা রায়েছে।
চীন ছাড়াও থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও তাইওয়ানে এ ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তাদের নাগরিকদের চীন থেকে সরিয়ে নেয়া শুরু করেছে। অন্যান্য দেশও ভাইরাসটি ঠেকাতে চীন থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ছাড়াও নানা ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
এর আগে ২০০৩ সালে তীব্র তীব্র শ্বসন সিন্ড্রোমের (এসএআরএস) প্রাদুর্ভাবে চীনে যত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, সে সংখ্যা ছাপিয়ে গেছে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। সে সময় চীনে ৫ হাজার ২৩৭ জন সংক্রামিত হয়েছিল, এতে গোটা বিশ্বে মারা গেছিল প্রায় ৮০০।
এদিকে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও অনেকগুণ বেশি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। বেসরকারি হিসেব অনুযায়ী, কেবল হুবেই প্রদেশের উহানেই করোনায় সংক্রমিতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। সেখানকার একজন নার্সও কয়েকদিন আগে জানিয়েছিলেন, সরকারিভাবে আক্রান্তের যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, আসল সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বেশি।
ভাইরাসটি থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সমন্বয়ে প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টাও চলছে। এ ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছেন তা ইতিবাচক ফলাফল দিয়েছে বলে দাবি চীনা গবেষকদের। প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের গবেষকরাও।
গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এই ভাইরাসের দেখা মেলে। একটি সামুদ্রিক বাজার থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের বিভিন্ন শহরে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে উহানের সঙ্গে গণপরিবহন, বিমান চলাচল ও রেল সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য শহরেও ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
প্রাণঘাতী ভাইরাসটি চীনা পঞ্জিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চান্দ্রবর্ষ উদযাপনের সময় ছড়িয়ে পড়ায় চন্দ্রবর্ষের অনেক অনুষ্ঠান বাতিল করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
-এটি