বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


'ইসরাইলকে খুশি করতে জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে'

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহতের পর ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এর আগে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা উসকে দেশে-বিদেশে তীব্র সমালোচনা কুড়িয়েছেন ট্রাম্প।

কিন্তু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের শুরুটা কোথায়, ইরাকের মার্কিন দূতাবাসে হামলার পেছনে কি ইরানের ইন্ধন আছে, জেনারেল সোলাইমানির মত ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে হত্যার মাধ্যমে কী বার্তা দিতে চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে -এ সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রফেসর ও আন্তর্জাতিক গবেষক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম। তার সঙ্গে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের বিশেষ প্রতিবেদক সুুফিয়ান ফারাবী।


আওয়ার ইসলাম: ইরান ও আমেরিকার দ্বন্দ্বের শুরুটা কোথা থেকে?

ড. আব্দুল লতিফ মাসুম: গত কয়েক দশক আগে ইরান ছিল পুরো এশিয়ার মধ্যে আমেরিকার সবচেয়ে বড় তাবেদার রাষ্ট্র। শাহানশাহ রেজা শাহ পাহলভী ছিলেন মার্কিন মদদপুষ্ট নির্মম একজন শাসক। শাহানশা বাহ্যিকভাবে তৎকালীন সময়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বললেও ইসরাইলের সঙ্গে তার গোপন আতাত ছিল। যখন ইরানে ইসলামী বিপ্লব ঘটে তখন ইরানের মাটিতে ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

ইরানের জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে শাহানশাহ মার্কিনীদের সহযোগিতা ও ইসরাইলের মদদে রাজত্ব করে যাচ্ছিল। যা ছিল ইরানি জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ইরানের জনগণ আনোরন করে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ দেয়। তীব্র আন্দোলনের পর শাহানশা ক্ষমতাচ্যূত হয়।

সেই থেকে (১৯৮৯ সাল) থেকে ইরান আমেরিকার কঠোর বিরোধিতা করে আসছে। পৃথিবীতে ইরান একমাত্র দেশ যে আমেরিকার সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করে। সুতরাং বিরোধের শুরুটা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই। ইরানের ওপর থেকে আমেরিকার কর্তৃত্ব বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং আমেরিকা মিত্র ইসরাইলের বিরুদ্ধাচারণ শুরু হওয়া থেকেই মূলত এই সংঘাতের সূচনা। যা আজ পর্যন্ত চলে আসছে।

তবে মাঝখানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দ্রুতগতিতে আবারো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে দু'দেশের মাঝে নানা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরমধ্যে পরমাণু চুক্তি ছিল অন্যতম। ‌তবে বর্তমান