মুফতি ইউসুফ সুলতান ।।
বাংলাদেশের ঢাকা জেলার মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের (আইসিএমএইচ) এর উদ্যোগে সম্প্রতি মাতৃদুগ্ধ সংরক্ষণের জন্য ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিষয়টা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
মূলত প্রিম্যাচিউর শিশু, বা জন্মের সময় যার ওজন কম ছিল বা শিশুর মা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছেন না, সেক্ষেত্রে অন্য মায়ের দুধ শিশুর জন্য সহজপ্রাপ্য করাই এর মৌলিক উদ্দেশ্য। অনেক শিশু জন্মের সময় মা মারা যান, অনেক শিশুর বাবা/মা তাদের ফেলে রেখে যায় – তাদের জন্য মাতৃদুগ্ধের ব্যবস্থা করা কঠিন। অপর দিকে অনেকের শিশুকে দেয়া দুধ অতিরিক্ত হয়, যা নষ্ট হয়ে থাকে। এই উভয় পক্ষের মাঝে মধ্যস্থতা করতেই মিল্কব্যাংকের জন্ম।
গত শতাব্দীর মাঝামাঝি বিভিন্ন কৃত্রিম ফরমুলা দুধকে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প মনে করা হলেও গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বলছে, মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প আসলে নেই। শিশুর দৈহিক ও মানসিক গড়নে মাতৃদুগ্ধ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০০৫ সালে ওয়াশিংটনে একটি ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেসে ‘ইন্টারন্যাশনাল মিল্ক ব্যাংকিং ইনিশিয়েটিভ’ বা IMBI যাত্রা শুরু করে। IMBI হলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিল্ক ব্যাংকের এসোসিয়েশন। IMBI -র তথ্য মতে ব্রাজিলে সবচেয়ে বেশি – ২১৭টি – মিল্ক ব্যাংক রয়েছে। এবং ১৯৮৫ এ তারা মিল্ক ব্যাংক চালুর পর থেকে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে ৭৩%।
দুই.
নিজের শিশুকে দুধ পান করানোর পাশাপাশি অন্যের শিশুকে দুধ পান করানোকে ইসলাম সম্মানজনক দৃষ্টিতে দেখে। রাসূল স. এর জন্মের সময় আরবদের সংস্কৃতি ছিল দুগ্ধপানের জন্য দূরে কোথাও পাঠিয়ে দেয়। সে হিসেবেই হালিম সা’দিয়া রা. তায়েফ থেকে এসে রাসূল স. কে পান এবং তাঁর দুধমাতা হওয়ার সম্মান লাভ করেন।
এই দুধমাতার সম্পর্ককে ইসলাম এতটাই সম্মান দিয়েছে যে, পর্দা ও বিবাহের বিধানের ক্ষেত্রে দুধমাতাকে মায়ের আসনে রেখে দুধমায়ের স্বামী, সন্তান, নাতি-নাতনীকে আপন পরিবারের মর্যাদা দিয়েছে এবং তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম করেছে।
মিল্ক ব্যাংক যা করে তা হলো, বিভিন্ন মায়ের দুধকে একসঙ্গে করে বিভিন্ন প্রসেস করে সংরক্ষণ করে, যেন যাদের প্রয়োজন, তারা সহজেই তাদের শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় দুধ পেয়ে যান। পুরো ব্যাপারটাই ডোনেশন বা অনুদান মডেলের, এতে ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয় নেই।
শারিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এতে মোটা দাগে দুটো সমস্যা-
১. দুধমাতা নির্ধারিত না হওয়ায় একজন শিশুর সঙ্গে অনেক মায়ের পারিবারিক সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে। এবং ভবিষ্যতে ওই মায়েদের সন্তানাদি/ভাই-বোন শিশুর জন্য বিবাহ হারাম হয়ে যাবে। যেহেতু সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন মায়ের দুধ আছে তা জানা নেই, কা