শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮


'পবিত্র কুরআন সামনে রেখে কবিতা লিখতেন আল্লামা ইকবাল'

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুসলিম কবি ও দার্শনিক আল্লামা ইকবাল। যিনি তার অসামান্য রচনার মাধ্যমে ইংরেজ অপশাসনে স্থবির ও হতাশাগ্রস্থ ভারতীয় মুসলিম জাতিকে জাগিয়ে তোলেন এবং স্বাধীন সার্বভৌম মুসলিম ভারতের স্বপ্ন দেখান।

কালজয়ী এ মুসলিম মনীষীকে কাছ থেকে দেখেছেন, মিঞা আলি বখশ। যিনি দীর্ঘদিন আল্লামা  ইকবালের গৃহপরিচারক ছিলেন। পাকিস্তানি সাংবাদিক মোমতাজ হাসান ২৩ সেপ্চেম্বর ১৯৫৭ সালে তার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। যা ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়।

দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানের অপর সাংবাদিক এম মোয়েজুদ্দিন সংগ্রহ করেন এবং তা পুনর্প্রকাশ করেন। আওয়ার ইসলামের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি বাংলা ভাষায় তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন : আল্লামা ইকবার কখন ঘুম থেকে উঠতেন?

উত্তর : তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি খুব সামান্যই ঘুমাতেন। খুব গুরুত্বের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করতেন। নামাজের পর কুরআন তেলাওয়াত করতেন।

প্রশ্ন : তিনি কোন ঢঙ্গে কুরআন তেলওয়াত করতেন?

উত্তর : অসুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি উচ্চ আওয়াজে সুললীত কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। কণ্ঠবসে যাওয়ার পরও তিনি কুরআন তেলাওয়াত করতেন, তবে নিচু আওয়াজে।

প্রশ্ন : নামাজ ও তেলাওয়াত শেষ করে কি করতেন?

উত্তর : নামাজ ও তেলাওয়াত শেষে তিনি আরাম কেদারায় গা  এলিয়ে দিতেন। আমি হুক্কা রেডি করে দিতাম। তিনি হুক্কা নিতেন এবং আদালতে তার প্রতিদিনের কেসগুলোর উপর চোখ বুলিয়ে নিতেন। কখনো কখনো এ সময় কবিতার ভাব আসতো এবং কবিতা লিখতেন তিনি।

প্রশ্ন :  তার কবিতার ভাব এসেছে কিভাবে বুঝতেন?

উত্তর : তিনি আমাকে ডাকতেন বা তালি বাজাতেন। বলতেন, আমার খাতা ও কলমদানি নিয়ে এসো। নিয়ে আসলে তিনি কবিতা লিখতেন। পছন্দ না হলে খুব অস্থির হয়ে যেতেন। কবিতা রচনার সময় প্রায় কুরআন শরিফ নিয়ে আসতে বলতেন।

কবিতা আবৃত্তি ছাড়াও তিনি দিনে কয়েকবার আমাকে দিয়ে কুরআন শরিফ আনাতেন।

প্রশ্ন : কোর্টে যাওয়ার সময় কি করতেন?

উত্তর : আদালত শুরু হওয়ার দশ-পনের মিনিট পূর্বে রওনা হতেন। তার বাড়ি ছিলো কোর্টর কাছেই লাহোর নিউ মার্টেক এলাকায়। প্রথম দিকে ঘোড়ায় যেতেন এবং শেষ জীবনে গাড়িতে যেতেন।

প্রশ্ন : ওকালাত পেশায় কতোটুকু সময় দিতেন?

উত্তর : ওকালতি পেশায় তিনি নির্ধারিত পরিমাণের বেশি দিতেন না। সাধারণত তার হাতে যদি ৫০০ রুপি পারিশ্রমিকের কোনো কেস থাকতো, তবে নতুন কেস গ্রহণ করতেন না।পরবর্তী মà¦